শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



রাজপরিবারের বিরোধিতা করায় মুসলিম চিন্তাবিদের মৃত্যুদণ্ড চাইল সৌদি
খবর: আলজাজিরা

খবর: আলজাজিরা



বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবের প্রখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ শাইখ সালমান আল আওদাহ’র বিচার শুরু করার পর রাষ্ট্রপক্ষ তার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম, আন্দোলনকর্মী ও আওদাহ’র পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃতি দিয়ে বুধবার খবরটি জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

জাতিসংঘ আওদাহকে একজন সংস্কারক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এক বছর আগে ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন শুরু এবং প্রতিবেশী কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করার পর তাকে বন্দী করা হয়।

টুইটারে আওদাহ’র ১.৪ কোটি অনুসারী রয়েছে।

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে মিটমাটের আশা প্রকাশ করে আওদাহ এক টুইটে বলেন, ‘আল্লাহ তাদের জনগণের শান্তির জন্য তাদের হৃদয়ে ঐকতান দিন।’

স্থানীয় অকাজ পত্রিকার জানায়, রাষ্ট্রপক্ষ আওদাহ’র বিরুদ্ধে ৩৭টি অভিযোগ এনেছে এবং তার মৃত্যুদণ্ড দাবী করেছে।

লন্ডনভিত্তিক সৌদি মানবাধিকার সংগঠন এএলকিউএসটি সহ অন্যান্য আন্দোলনকর্মীরা জানান, আওদাহ’র বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগে বলা হয়েছে তিনি সৌদি শাসকের বিরোধিতায় উস্কানি দিচ্ছেন এবং বিভেদ ছড়াচ্ছেন।

আওদাহ’র ছেলে আব্দুল্লাহ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, তার বাবা কয়েকটি সমালোচনামূলক টুইট করায় এবং মহানবী মোহাম্মদ (সা.)-এর মর্যাদা রক্ষায় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সৌদি আরবের অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা ডানা আহমেদ এই সংবাদে উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ‘সৌদিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভিন্নমত অনুসরণ এবং প্রচার করলে মৃত্যুদণ্ড দেয়াতো অত্যন্ত ভীতিজনক প্রথা।’

আলজাজিরা জানায়, সৌদি আরবে ক্ষমতাসীন আল-সৌদ পরিবার বহু বছর ধরে ইসলামি সংগঠনগুলোকেই দেশের অভ্যন্তরে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে বিবেচনা করে আসছে।

১৯৯০-এর দশকে মুসলিম ব্রাদারহুড দ্বারা অনুপ্রাণিত ‘সাহওয়া (জাগরণ)’ আন্দোলন ক্ষমতাসীন রাজপরিবারের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে।

শাহওয়া নেতা আওদাহকে ১৯৯৪-৯৯ সালে বন্দী করে রাখা হয়েছিল রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করার দায়ে।

২০০১ সালে আওদাহ দেশে নির্বাচন এবং ক্ষমতার বণ্টন দাবী করেন, যা সৌদি রাজ্যের বিরুদ্ধে ভয়াবহ উস্কানি বলে বিবেচিত।

সৌদি আরবে রাজাই একচ্ছত্র অধিপতি এবং সেখানে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ। গত বছর সেখানে ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে বিশাল দমন অভিযানে কয়েক ডজন ধর্মীয় নেতা, চিন্তাবিদ, এবং নারী অধিকার আন্দোলন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

এদের মধ্যে প্রখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ আওয়াদ আল-কারনি, ফারহান আল-মালকি, মোস্তফা হাসান, এবং সাফার আল-হাওয়ালিও রয়েছেন।