মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



ভারতজুড়ে ধরপাকড়: বিজেপির বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড়
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

ভারতে বিদ্বজ্জনদের ধরপাকড়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। লেখক থেকে রাজনীতিবিদ— সকলেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই ঘটনায়।

লেখিকা অরুন্ধতী রায় বলেছেন, ‘কবি, সাহিত্যিক, দলিত আন্দোলনকারী, আইনজীবীদের বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলে পোরা হচ্ছে। ঠিক যেন জরুরি অবস্থা। ওদের উচিত গোরক্ষার নামে যারা গণপিটুনি দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে এবং উস্কানি দিচ্ছে, তাদের গ্রেফতার করা।’

তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও। একটি বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ভয়-ভীতির পরিবেশ সৃষ্টির বদলে ভারতের উচিত মত প্রকাশ, সভা সমিতি গঠন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করা। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, বিদ্বজ্জনদের প্রতিবাদী ভাবমূর্তি এবং কাজকর্মের জন্যই কি তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।’

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ধরপাকড়ের খবর সামনে আসার পর বিজেপির প্রতি নিন্দা জানিয়ে যৌথভাবে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে। গুজরাটের দলিত নেতা জিগ্নেশ মেবাণি, সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা ফিল্মমেকার নকুল সিংহ, সমাজকর্মী স্বামী অগ্নিবেশ ও আরও অনেকে এই যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে কড়া ভাষায় বিজেপির নিন্দা করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে যারাই সুর চড়িয়েছে, তাদেরই পরিণতি ভয়ানক হয়েছে। সমাজকর্মী সুধা ভরদ্বাজ এবং কবি ও মানবাধিকার কর্মী ভারাভারা রাও, গৌতম নাভলাখা, অরুণ ফেরেরা, ভার্নন গঞ্জালভেস— এরা সকলেই পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য লড়াই চালাচ্ছেন। এদের গ্রেফতারের একটাই উদ্দেশ্য, ভয় দেখানো। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে এভাবে মেরুকরণের রাজনীতি করতে চাইছে বিজেপি। আমরা এটাও শুনেছি, সুধা ভরদ্বাজকে গ্রেফতারের পর বিজেপি ঘনিষ্ঠ এক সংবাদমাধ্যমের জন্য অপেক্ষা করছিল পুলিশ। এরা দেশে চলতে থাকা অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন, বিজেপি যে কতটা ভয় পেয়েছে এর থেকেই পরিষ্কার।’

প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সমাজবিজ্ঞানী রণবীর সমাদ্দারও। তিনি বলেন, ‘আমি ভারাভারা রাওয়ের গ্রেফতারের ঘটনাটার কথা এখনও পর্যন্ত সঠিকভাবে জানি না। তবে গ্রেফতারের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই জাতীয় গ্রেফতারের ঘটনায় জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। দেশজুড়ে এ রকম ঘটনা আরও ঘটছে। রাজনীতি নিয়ে সুস্থ আলোচনার পরিবেশটাই নষ্ট হতে চলেছে। বিরুদ্ধে কথা বললেই গ্রেফতার করা হচ্ছে।’

‘যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই বিজেপি-আরএসএসের অসাধু কার্যকলাপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছিলেন। দেশজুড়ে দলিত-আদিবাসী এবং মুসলিমদের ওপর যেভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তার প্রতিবাদ করছিলেন এরা। তাদের মুক্তির জন্য আমরা লড়াই চালিয়ে যাব’, বলেন মানবাধিকার কর্মী রণজিৎ সুর।