রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

হাওরপারের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে



বিজ্ঞাপন

 এ.জে লাভলু:: চারদিকে বন্যার পানি। ঢেউয়ে ঘরের চারপাশের মাটি সরে গেছে। কোনোমতে ঘরটি দাঁড়িয়ে আছে। ঘরটি হাকালুকি হাওরপারের মুর্শিবাদকুরা গ্রামের আপ্তাব উদ্দিনের। ঘরে পানি ওঠায় প্রায় ২০ দিন আগে তিনি ঘর ছেড়ে পরিবার নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছিলেন। বন্যার পানি না কমায় আপ্তাব আর ঘরে ফিরতে পারেননি। পরিবার নিয়ে তাকে এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হচ্ছে। এতে তাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আলাপকালে আপ্তাব উদ্দিন বলেন, গত ১৭ জুন ঘরে পানি ওঠায় আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে পরিবার নিয়ে উঠেছেন। এখনও আশ্রয় কেন্দ্রে আছেন। আগে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন দিনে নৌকা চালান আর রাতে সুযোগ পেলে মাছ ধরে কোনোমতে জীবিকা করেন। অনেক কষ্টে দিন পার করছেন। তিনি বলেন, বন্যায় তার অনেক ক্ষতি হয়েছে। ঘরের অবস্থা ভালো নয়। চারপাশের মাটি সরে ঘরটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। খুব ভোগান্তির মধ্যে আছেন।

মৌলভীবাজারের বড়লেখার তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি হাওরপারের বন্যাদুর্গত অনেক মানুষের অবস্থা এখন আপ্তাবের মতো। কারণ বন্যা পরিস্থিতি যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততো তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

সরেজমিন তালিমপুর ইউনিয়নের বন্যা কবলিত কয়েকটা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেকের বাড়িঘর এখনও পানিতে ডুবে আছে। কারও ঘরের চারপাশের মাটি সরে গেছে। কারও ঘর কোনো মতে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ আফালের সাথে লড়াই ঘর বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

মুর্শিবাদকুরা গ্রামের মস্তই মিয়া বলেন, ঘরের চারদিকে পানি। কষ্ট করে ঘরে আছি। আশ্রয় কেন্দ্রে যাইনি। আশ্রয় কেন্দ্রে গেলে ঘর আফালে ভেঙে যাবে। তাই ঝুঁকি নিয়ে আফালের সাথে লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।

এলাকার মানুষজন জানান, বন্যা পরিস্থিতি যত দীর্ঘায়ীত হচ্ছে, তাদের দুর্ভোগ তত বাড়ছে। তারা অনেক কষ্ট করে দিনযাপন করছেন। তারা কীভাবে সংসার চালাবেন। কীভাবে ঘর-দোয়ার মেরামত করবেন-এসব চিন্তা এখনও তাদের ঘিরে ধরেছে।

জানা গেছে, গত ১৬ জুন থেকে থেকে বড়লেখায় ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে উপজেলার দশটি ইউনিয়নের ২৫২টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ তলিয়ে যায়। এতে প্রায় লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। ঘরে টিকতে না পেরে অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটে যান। কেউ আবার আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ রাস্তা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বানভাসি মানুষ। এরপর কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে ঢল না নামায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হচ্ছিল। কিন্তু চলতি মাসের ১ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আবারও অবনতি হয়। বিশেষ করে উপজেলার তালিমপুর, বর্ণি, দাসেরবাজার, সুজানগর ও বড়লেখা সদর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত নিম্না লের মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উপজেলায় প্রথম দফায় বন্যায় ৩৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৫’শ পরিবার আশ্রয় নেয়। পানি কিছুটা কমায় চারটি আশ্রয় কেন্দ্রে ছেড়ে কয়েকটি পরিবার বাড়িতে ফিরে গেছে। বর্তমানে ২৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৪’শ পরিবার রয়েছে। এদিকে বন্যা কবলিত এলাকায় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি-সংগঠনের পক্ষ থেত্রে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন বন্যাদুর্গতরা।

বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে জানিয়ে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজরাতুন নাঈম বলেন, বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পাশপাশি বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হচ্ছে। সার্বক্ষণিক বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।