বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



সিলেটে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি হচ্ছে আজ
খবর: বাংলানিউজ

খবর: বাংলানিউজ



বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের ইতিহাসের আরেক কলঙ্কজনক অধ্যায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ বুধবার। এ রায়কে ঘিরে সিলেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই রায় নিয়ে সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীরা উদ্বেগ, উৎন্ঠায় থাকলেও জেলা ও মহানগর বিএনপির আপাতত কোনো কর্মসূচি নেই, নেই কোনো প্রস্তুতিও। রায়ের দিন কেন্দ্রের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

এরই রায়কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা তৎপর হয়ে উঠলেও সিলেট রয়েছে ব্যতিক্রম। রাজনীতির সম্প্রীতির শহর সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীরাও মাঠে থাকলেও কৌশলে আন্দোলন করবেন -এমন আভাস দিয়েছেন সিলেট বিএনপির শীর্ষ সারির নেতারাও।

অপরদিকে রায়ের দিন বিএনপির ‘নাশকতা’ ‘অপতৎপরতা’ রুখতে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। কেননা, বিএনপির বিগত দিনের ইতিহাসে সিলেটেও জ্বালাও পোড়ায়ের ঘটনার উদাহরণ রয়েছে অহরহ। ফলে এই ইস্যুকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ দলের নেতাকর্মীরা এরইমধ্যে একাধিক সভা করেছে ।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন, আমরা সব সময় রাজপথে আছি, থাকবো। ১০ আগস্ট রায়কে কেন্দ্র করে সিলেট বিএনপি রাজপথে নামতে প্রস্তুতি রয়েছে। কেবল কেন্দ্রের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। তবে রাজপথে কোনো কোনো স্থানে বিএনপি অবস্থান করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা যুদ্ধ নাকি, রাজপথে পয়েন্টে পয়েন্টে অবস্থান করতে হবে।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, কৌশলগতভাবে আমরা আন্দোলন করবো। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তারা আলোচনা করেছেন। অবশ্য কেন্দ্র থেকে কি ধরণের নির্দেশনা আসে,সেটার অপেক্ষায় আছি।

মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন সংগ্রাম চলমান রয়েছে। আর ১০ আগস্ট রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপিপ্রস্তুত আছে। শুধু কেন্দ্র থেকে পাওয়া নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি।

তবে বিএনপির ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি পালন করতে দেবে না আওয়ামী লীগ। রায় উপলক্ষ্যে ওই দিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকবে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ২১ আগস্ট ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বিএনপি-জামাত আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। দেশরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পেলেও গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারান আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মী। এরপর তারা ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে জজ মিয়া নাটক সাজায়।

তিনি বলেন, ১৪ বছর বিচারের পর নারকীয় এই হত্যা মামলার রায় হবে বুধবারে। রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির সকল অপতৎপরতা রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছেন তারা। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, ওই দিন সিলেটের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অপতৎপরতা রুখে দেওয়া হবে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেন, রায়কে ঘিরে নগরীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এক কথায় যেকোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালালে পুলিশ কঠোরভাবে মোকাবেল করবে।

২১ আগস্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট ৫২ জন আসামির মধ্যে তিনজনের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যে কারণে ৪৯ আসামির বিচার চলছে। এরমধ্যে এখনো পলাতক রয়েছেন ১৮ আসামি।

মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পলাতক। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুতর আহত হন। মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আইভি রহমানসহ নিহত হন ২৪ জন। আহত হন আরো কয়েকশ নেতাকর্মী।