রবিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



ক্ষমতায় আসলে বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করবো, দলীয়করণ হবে না: সুনামগঞ্জে এরশাদ
ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট



বিজ্ঞাপন

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আমি প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না। শান্তিতে বিশ্বাস করি। দেশের মানুষ আমার সম্পর্কে সব জানে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসে ৫ হাজার ৮৮৮টি মামলা তুলে নিয়েছিল। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তুলে নিল ৬ হাজার মামলা। ৮০ হাজার আসামি খালাস পেল। রাজনীতির এই পালাবদল আমরা চাই না।’

১৬ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জাপার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহর সভাপতিত্বে এরশাদ বলেন, ‘আর ক্ষমতার পালাবদল চাই না। প্রত্যেকবার পালাবদল হয়, মানুষ কিছুই পায় না। মানুষ বাঁচতে চায়। এজন্য আমি পালাবদলের রাজনীতি চাই না, পরিবর্তন চাই।’

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি জেলে থেকে নির্বাচন করেছিলাম। সিলেটের মানুষ আমাকে ৮টি আসন উপহার দিয়েছিল। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এবার আপনারা আমাকে আরো বেশি আসন উপহার দিবেন।’

তিনি ঘোষণা দেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসলে বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করবো, কোনো দলীয়করণ হবে না। পুলিশ প্রশাসন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।’

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি সারা জীবন মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি। এখন আমার বয়স হয়েছে, কিন্তু মানুষ দেখলে আমার বয়স কমে যায়। প্রখর রোদের মধ্যে আপনারা ছুটে এসেছেন। মিসবাহ বলেছিল, সম্মেলনে ৫০ হাজার লোক হবে। এখন দেখছি, মানুষ আরও বেশি হয়েছে। আমি নিজের জন্য কিছু চাই না। মানুষের মুক্তি চাই, মানুষের অধিকার চাই।’

অাওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমদের বক্তব্যের সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, তিনি (তোফায়েল আহমেদ) আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে ক্ষমতায় না যেতে পারলে দেশে এক লাখ লোক মারা যাবে। আপনারা জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দিন। আমি বলছি, একজন লোকও মারা যাবে না। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আমরা পরিবর্তন চাই। এই পরিবর্তন জাতীয় পার্টি আনতে পারে।’

এরশাদ আরো বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসতে পারলে প্রাদেশিক সরকার গঠন করা হবে। আবারো উপজেলা ফিরিয়ে আনা হবে। এখনকার উপজেলা নয়, আগের মতো উপজেলা প্রশাসন হবে।’

এ সময় তিনি সুনামগঞ্জ-৪ আসনে অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ঘোষণা করে বলেন, ‘আমি আমার আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করিনি। সর্বপ্রথম মিসবাহকে জাপার প্রার্থী ঘোষণা করলাম। আপনারা তাকে লাঙল প্রতীকে ভোট দেবেন, আমার ইজ্জত রাখবেন।’

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদম্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি, এহিয়া চৌধুরী এমপি, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ প্রমুখ।