শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



নাটোরে বাস লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ১৫
খবর: মানবজমিন

খবর: মানবজমিন



বিজ্ঞাপন

নাটোর-পাবনা মহাসড়কের কদিমচিলানে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে। শনিবার বিকেলে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে লালপুর উপজেলার কদিমচিলান কিলিক মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশ ও নাটোর থেকে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল, বনপাড়া পাটোয়ারী ক্লিনিক ও আমেনা হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এদিকে নিহত ও আহত পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিএম শামসুন নুর ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাটোর-পাবনা মহাসড়কে লালপুর উপজেলার কদিমচিলান কিলিক মোড় এলাকায় পাবনা থেকে রাজশাহীগামী চ্যালেঞ্জার বাস ও পাবনাগামী লেগুনার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে ঘটনাস্থলেই ১৩ জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হন।

খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশ ও নাটোর থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে বনপাড়া পাটোয়ারী ক্লিনিক ও আমেনা হাসপাতালে ভর্তি করে। নিহতদের ১০ জন ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। এছাড়া আহত আরো দুইজন রাতে স্থানীয় আমেনা হাসপাতালে মারা যান। আহতদের পরিস্থিতির অবনতি হলে দু’জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও একজনকে নাটোর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নিহত ১৪ জনের মধ্যে ২ জন শিশু, ৪ জন মহিলা, অন্যরা পুরুষ। এদিকে এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- নাটোর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান ও একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যার নাম নিশ্চিত করবে পুলিশ প্রশাসন।

ওই কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহকে প্রধান করে তিন সদস্যের আরো একটি তদন্ত কমিটি করেছে পুলিশ। এদিকে নিহত সকল পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা আর আহতদের ৫ হাজার করে টাকা সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন। তবে জেলা প্রশাসক সার্বিক ড. রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, পরবর্তীতে অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আরো আর্থিক সহায়তা করা হবে।

এদিকে নিহতদের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- একই পরিবারের পাবনার মুলাডুলির মন্টু বিশ্বাসের ছেলে প্রত্যয় বিশ্বাস (১২), মেয়ে স্বপ্না বিশ্বাস ও স্ত্রী আদুরী বিশ্বাস, লেগুনার চালক নীলফামারীর আবদুর রহিম, লেগুনা যাত্রী নাটোরের বড়াইগ্রামের নারায়াণপুরের আবু তাহেরের স্ত্রী রজুফা, একই গ্রামের রূপচাদের স্ত্রী শেফালী বেগম, বড়াইগ্রামের জামাই দিঘার লজেনা বেগম (৬৫), পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীর আবদুস সোবহান, টাঙ্গাইল গোপালপুরের রোকন উদ্দিন এবং রাজশাহীর চারঘাটের মীরকামারীর শাপলা খাতুন (২০)।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালীতে একটি যাত্রীবাহী ভ্যান উল্টে নানা-নাতি নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুইজন। তাদের মধ্যে একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাটাখালীর সমশাদিপুর এলাকায় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হলেন- কাটাখালীর দেওয়ানপাড়া এলাকার নাজিম উদ্দিন (৫০) ও তার নাতি আরাফাত হোসেন (৩)। আর আহতরা হলেন- নাজিমের স্ত্রী আছিয়া বেগম (৪৫) ও তাদের আরেক নাতি নোমান (৫)।

নাজিমের চাচাতো ভাই ও কাটাখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মোতালেব জানান, সকালে নাজিম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজের ভ্যানে কাপাসিয়া এলাকায় শ্যালিকার বাসায় বেড়াতে যাচ্ছিলেন। এ সময় ভ্যানটির ডানপাশের চাকার শকাব ভেঙে রাস্তার উপর উল্টে যায়। এতে তারা চারজন আহত হন। পরে তিনজনকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজিম ও তার নাতি আরাফাতকে মৃত ঘোষণা করেন। আর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আছিয়া বেগমকে। তবে নোমানকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে রাজশাহীতে ট্রেনে কাটা পড়ে লাবলু শেখ (১৬) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত লাবলু মহানগরীর মতিহার থানার নতুন বুধপাড়া এলাকার নকির শেখের ছেলে।
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের মীরসরাই এলাকায় ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অজ্ঞাত এক যুবক নিহত হয়েছে। উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর (ডাকঘর) এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকঘরের পূর্বপাশে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে নিহত হয় ওই যুবক। গত শুক্রবার রাত ৯টায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লায় পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ২
কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে অর্ধশত যাত্রী। শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী ও রায়পুর এলাকায় পৃথক এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শনিবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী এলাকায় দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে ওই বাসের ২ জন যাত্রী নিহত হন। নিহতরা হলেন- চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ইয়াছিন মিয়া ও বগুড়ার সোনাতলা এলাকার জামাল উদ্দিন। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন। অপরদিকে সকাল সাড়ে ৫টার দিকে মহাসড়কের একই উপজেলার রায়পুর এলাকায় চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের অপর একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

নড়াইলে অটোবাইকের ধাক্কায় ভ্যান চালক নিহত
নড়াইল প্রতিনিধি জানান, নড়াইলে শেখ রাসেল সেতুর পাশে অটোবাইকের ধাক্কায় ভ্যান চালক নজরুল গাজী (৪০) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নজরুল সদরের সীমাখালী গ্রামের হাবিবর গাজীর ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নজরুল গাজী নড়াইলের শেখ রাসেল সেতুর পূর্ব পাশে সড়কের ওপর যাত্রীর অপেক্ষায় ভ্যানের ওপর বসেছিলেন। এ সময় অটোবাইক ভ্যানটিকে ধাক্কা দিলে চালক নজরুল সেতুর নিচে সরু রাস্তার ওপর পড়ে নিহত হন।

হোসেনপুরে মোটরসাইকেল চাপায় মোয়াজ্জিন নিহত
হোসেনপুরে মোটরসাইকেলে চাপা পড়ে আবদুল গণি (৬৫) নামে মসজিদের এক মোয়াজ্জিন নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর সড়কে দরিয়াবাজ মসজিদ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল গণি দরিয়াবাজ মসজিদের মোয়াজ্জিন ছিলেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার জোহরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে রাস্তা পার হয়ে বাড়ি ফেরার সময় হোসেনপুর থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেল গণি মিয়াকে চাপা দেয়। এতে তিনি মারাত্মক আহত হলে এলাকাবাসী আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে রাস্তায় মৃত্যুবরণ করেন। এ সময় এলাকাবাসী মোটর সাইকেল চালকসহ তিন আরোহীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আটকরা হলো- আবু নাঈম (২১), মাসুম মিয়া (১৭) ও সাকিব মিয়া (২০)। তারা সবাই কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকার বাসিন্দা।

চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মোটরসাইকেল চালক পারভেজ হোসেন (২৩) নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের শুক্কুর মিয়ার পুত্র। গতকাল বিকালে নামাজে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারভেজ শনিবার সকালে মিরশান্নী-নালঘর সড়কে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে পারভেজ গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রামে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

মাধবকুণ্ড দুর্ঘটনায় নিহত ১
বড়লেখার মাধবকুণ্ড বেড়াতে গিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না রাজুর শনিবার বিকালে পর্যটকবাহী মিনিবাস ও সিএনজি চালিত আটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশা চালক রাজুর আহমদ (২১) নিহত হয়েছে। তার সঙ্গে ৫ বন্ধু আহত হয়েছেন। অটোরিকশা আরোহী নিহত রাজু জুড়ী উপজেলার কালিনগর গ্রামের নেছার আলীর ছেলে। পবিত্র ঈদ উপলক্ষে তারা ৬ বন্ধু মিলে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে কাঁঠালতলী-মাধবকুণ্ড সড়কের ব্যবসায়ী আবদুল আহাদ মিয়ার বাড়ির সম্মুখে সিলেটের পর্যটকবাহী মিনিবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার এবং ঘাতক মিনিবাসটি আটক করেছে।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জুড়ী উপজেলার কালিনগর গ্রামের ৬ বন্ধু রাজু আহমদ (২১), জাকির হোসেন (১৯), এনাম উদ্দিন (৩৫), শাকিল আহমদ (১৭), সাইদুল ইসলাম (১৬) ও সামছুল ইসলাম (১৬) শনিবার দুপুরে সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে বেড়াতে যায়। বিকাল ৫টার দিকে তারা মাধবকুণ্ড থেকে বাড়ি ফিরছিল। কাঁঠালতলী বাজারের একটু দূরে আবদুল আহাদের বাড়ির সামনে গেলে সিলেট থেকে আহত পর্যটকবাহী একটি মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে আটোচালক রাজু আহমদসহ ৬ জনই গুরুতর আহত হন। রাজু আহমদ ও জাকির হোসেনকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর চারজনকে জুড়ী আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।