শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



পুকুরে পড়ার আগে চিৎকার দেয় শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীরা
খবর: জাগো নিউজ

খবর: জাগো নিউজ



বিজ্ঞাপন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়ঙ্কর গতিতে চলা শ্যামলী পরিবহনের দুটি বাস পুকুরে নামিয়ে দিয়েছে চালক। গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে যাত্রীবোঝাই দুটি বাস পুকুরে ফেলে দেয় চালক। এতে দুইজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পাশাপাশি অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হন।

নিহতরা হলেন- চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ইয়াছিন মিয়া ও বগুড়ার সোনাতলা এলাকার জামাল উদ্দিন। আহতদের মধ্যে ৪০ জনকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর ১০ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলীতে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে দুই যাত্রী নিহত হন। এ সময় অন্তত ৩৫ জন আহত হন।

এই ঘটনাস্থলের একটু দূরে কিছুক্ষণ পরই রায়পুরে শ্যামলী পরিবহনের আরেকটি বাস পুকুরে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হন।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, জিংলাতলীতে দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে পুকুরে পড়ে যায়। এতে বাসের দুইজন যাত্রী নিহত হন। এতে কমপক্ষে ৩৫ জন যাত্রী আহত হন।

ওসি বলেন, একই সময় রংপুর থেকে চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের আরেকটি বাস দাউদকান্দির রায়পুরে মহাসড়কের পাশে পুকুরে পড়ে যায়। এতে কমপক্ষে ১৫ জন যাত্রী আহত হন।

জিংলাতলীতে দুর্ঘটনাকবলিত শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী ইলিয়াস হোসেন বলেন, পুরো মহাসড়ক ফাঁকা ছিল। ভয়ঙ্কর গতিতে চালাচ্ছিলেন বাসচালক। এ নিয়ে যাত্রীরা চিল্লাপাল্লা করেছেন। কিন্তু যাত্রীদের কথা কানে নেননি চালক। এতটা গতি ছিল যে সেটি আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি চালক। ফলে যাত্রীবোঝাই বাসটি পুকুরে ফেলে দেন চালক। পুকুরে পড়ে যাওয়ার আগে চিৎকার দেন যাত্রীরা।

রায়পুরে দুর্ঘটনাকবলিত শ্যামলী পরিবহনের আরেকটি বাসের ছাত্রী ছিলেন চট্টগ্রামের আরমান আলী। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে মহাসড়ক ফাঁকা পেয়ে দ্রুতগতিতে বাস চালাচ্ছিল চালক। আমরা ভয়ে ভয়ে ছিলাম সব যাত্রী। একটি পিকআপকে পাশ কাটাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমাদের বাসটি পুকুরে পড়ে যায়। চালকদের দ্রুত না চালাতে নিষেধ করলেও কারো কথা শোনেনি চালক।

একই কথা বলেছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল কাদের জিলানী। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে মহাসড়ক ফাঁকা পেয়ে দ্রুতগতিতে চালাতে গিয়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ও দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে। দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।