শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



আমিরাতে পাসপোর্টের অপেক্ষায় ৫০০০ বাংলাদেশি
প্রবাস ডেস্ক

প্রবাস ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

আবুধাবিতে গতকাল গালফ নিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি অ্যামনেস্টি প্রার্থী এখন বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। তারা নতুন পাসপোর্ট পেতে আবেদন করেছে। এবং বাংলাদেশ দূতাবাস আশা করছে যে, অ্যামনেস্টি চলাকালে আরো ৫ হাজার বাংলাদেশি নতুন পাসপোর্টের জন্য দরখাস্ত করবে।

তবে গত ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১২ শ’ বাংলাদেশি শ্রমিক দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরমধ্যে অন্তত ১শ’ শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন। বাকিরা  ৩ মাসের মধ্যে ফিরবেন বলে আশা করা যায়। কারণ ইমার্জেন্সি সনদ ৩ মাসের জন্য বৈধ থাকবে। বাংলাদেশ দূতাবাস আরো জানিয়েছে যে, তারা সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কয়েক শ’ পাসপোর্ট পেয়েছেন, কিন্তু তার বেশির ভাগই মেয়াদ উত্তীর্ণ।

এছাড়া বাংলাদেশিরা স্বীকার করেছেন যে, যারা থেকে যেতে চাইছেন, তারা নতুন জব ভিসা পেতে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এর আগে ২০১২-২০১৩ সালে অ্যামনেস্টি দেয়ার সময় প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশি বৈধতার সুযোগ পেয়েছিলেন।

এদিকে একজন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা গালফ নিউজকে বলেছেন, দেশটিতে কর্মরত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের। এবারে যারা অ্যামনেস্টি চাইছেন, তারাও প্রধানত একই এলাকার।

উল্লেখ্য, পাসপোর্টের জন্য  হাজার দরখাস্তকারীর মধ্যে ৩ হাজার আবেদনকারী দুবাইয়ে এবং বাকি ২ হাজার আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দরখাস্ত করেছেন। আবুধাবিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান গালফ নিউজকে বলেছেন, আগামী সপ্তাহে দু’শ জনকে নতুন পাসপোর্ট দেয়া সম্ভব হবে। এই আবেদনকারীরা ৩১শে আগস্টের আগে দরখাস্ত করেছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ঢাকা থেকে পাসপোর্ট চূড়ান্ত হয়ে আসতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগে। ৫ হাজার বাংলাদেশির অধিকাংশই থেকে যেতে চাইছেন। সে কারণে তারা নতুন চাকরি খুঁজে পেতে ছয় মাসের ভিসা কিংবা যারা চাকরি পেয়েছেন, তারা এসপ্লয়মেন্টে ভিসার জন্য দরখাস্ত করেছেন।

ওই রিপোর্টে তথ্য দেয়া হয় যে, যে দু’শ জনের পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে, তারা সবাই আগস্ট মাসের গোড়ায় দরখাস্ত করেছিলেন। এই ব্যক্তিদের তালিকা আবুধাবির বাংলাদেশ এবং দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটে টানিয়ে দেয়া হবে। রাষ্ট্রদূত আরো বলেছেন, বাংলাদেশি যেসব সংগঠন রয়েছে তাদেরকেও জানিয়ে দেয়া হবে।

পাসপোর্টের জন্য দরখাস্ত জমা দেয়ার চার সপ্তাহ পরে বাংলাদেশ মিশনে অগ্রগতি জানার জন্যও রাষ্ট্রদূত আহ্বান জানিয়েছেন। জনাব ইমরানের কথায়, বাংলাদেশি অ্যামনেস্টি প্রার্থীদের শতকরা ৮০ জনই সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকতে চাইছেন। অন্যদিকে যারা দেশে ফিরতে চাইছেন, অথচ পাসপোর্ট নেই তাদেরকে মিশন থেকে ইমার্জেন্সি সার্টিফিকেট বিতরণ করা হচ্ছে। গত ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত দুবাইয়ে প্রায় ৭শ’ এবং আবুধাবিতে ৫শ’ বাংলাদেশি শ্রমিককে ওই সনদ দেয়া হয়েছে।