রবিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



জাফলংয়ে ১৫ বছরে অর্ধশত দর্শনার্থীর মৃত্যু
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পর্যটন এলাকাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে জাফলং। পাহাড়-নদী, পাথর আর স্বচ্ছ জলরাশির মেলবন্ধন দেখতে এখানে বছরের সবসময়ই পর্যটক-দর্শনার্থীর ভিড় লেগে থাকে। জেলা সদর থেকে মেঘালয়ের পাদদেশের জাফলংয়ের দূরত্ব ৫৮ কিলোমিটার।

কিন্তু জাফলংয়ের পিয়াইন নদীতে সাঁতার কাটতে নেমে গত ১৫ বছরে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় অর্ধশত দর্শনার্থী। এদের বেশিরভাগই ছাত্র। সর্বশেষ গত শনিবার ঈদুল আজহার ছুটিতে বেড়াতে আসা ঢাকা সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত আহমদ (১৯) প্রাণ হারিয়েছেন এই পিয়াইনে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিয়াইন নদীর মধ্যখানে তীব্র স্রোত থাকে। এই স্রোতে অনেকেই টিকতে পারেন না। আবার নদী থেকে পাথর উত্তোলনের কারণে তলদেশে অনেক চোরাবালিও রয়েছে। ফলে কম পানি থাকলেও অনেকে চোরাবালিতে আটকা পড়েন। আবার যারা সাঁতার জানেন না তারা স্রোতে তলিয়ে যান। এসব কারণেই সেখানে পর্যটকের মৃত্যু হচ্ছে। তবে কলেজ ছাত্র রিফাতের মৃত্যুর পর জাফলংয়ে পর্যটক-দর্শনার্থীরা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন তারা।

জাফলংয়ের পর্যটক আকর্ষণের অন্যতম হচ্ছে বল্লাঘাট জিরো পয়েন্ট। ভারতের পাহাড় থেকে নেমে আসা ডাউকি নদী ও বাংলাদেশের পিয়াইন নদীর সংযোগস্থলের সৌন্দর্য অবলোকনে এ জিরো পয়েন্ট এলাকায় বেশি ভিড় করেন পর্যটক। বিশেষ করে দুই ঈদের ছুটিতে সেখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। এসময় বেশির ভাগ পর্যটক-দর্শনার্থী পিয়াইনের স্বচ্ছজলে গা ভিজিয়ে নিতে নদীতে নেমে পড়েন। তখনই ঘটে দুর্ঘটনা।

বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১৫ আগস্ট জাফলং বেড়াতে গিয়ে পিয়াইন নদীতে ডুবে প্রাণ হারান সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রেজাউর রহমান ফয়সাল ও রাজন আহমদ। এ ঘটনার পর পর্যটন এলাকায় দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। তবে এরপরেও তাদের উদ্যোগ তেমন সফলতা পায়নি। থামেনি মৃত্যুর মিছিলও।

এর মধ্যে ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পিয়াইন নদীতে ডুবে মারা যান চট্টগ্রাম সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সল হোসেন সৌরভ ও ময়মনসিংহ এ্যাপোলো ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী কামাল শেখ। ২০১৬ সালে চারজন, ২০১৫ সালে ২ জন, ২০১৪ সালে ৬জন, ২০১৩ সালে ৪ জন মারা যান। এছাড়া ২০১২ সালে ২জন, ২০১০ সালে ৭জন, ২০০৯ সালে ৩জন, ২০০৮ সালে ১জন, ২০০৭ সালে ২ জন, ২০০৬ সালে ২ জন, ২০০৫ সালে ১ জন, ২০০৪ সালে ২ জন দর্শনার্থীর মৃত্যু হয়।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) হিল্লোল রায় বলেন, ‘মৃত্যুবরণকারীদের বেশিরভাগ ছাত্র। তারা অনেক সময় আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা মানতে চায় না। তাদেরকে যেমন বুঝানো যায় না, তেমনি তাদেরকে আঘাতও করা যায় না। এদের মধ্যে অনেকেই আবার সাঁতার জানেন না। যে কারণে প্রতি বছরই জাফলংয়ে পানিতে ডুবে পর্যটকদের মৃত্যু হচ্ছে।’

কলেজ ছাত্র রিফাতের মৃত্যুর পর তারা জাফলংয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এনিয়ে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন।

গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, ‘জাফলংয়ে পর্যটকদের সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি এজেন্সি কাজ করছে। সেখানে সাঁতার না কাটতে সাইনবোর্ডও সাঁটানো রয়েছে। এরপরও পর্যটকরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গোসল করতে নামেন। যে কারণে সেখানে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে।’