শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



সিলেটে প্রতিশোধ নিতেই খুন করা হয় ছাত্রদল নেতা রাজুকে
ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট



বিজ্ঞাপন

প্রতিশোধ নিতেই খুন করা হয় ছাত্রদল নেতা ফয়জুল হক রাজুকে (২৬)। নিজ দলের প্রতিপক্ষ গ্রুপের ক্যাডারদের হামলায় নিহত হন রাজু। তার পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে।

রাজু সিলেট ল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। চাচা জেলা যুবলীগ নেতা দবির মিয়ার সঙ্গে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরে বসবাস করতেন। রাজু মহানগর ছাত্রদলের সাবেক কমিটির সহ প্রচার সম্পাদক ছিলেন। আরফিুল হক চৌধুরীর বিজয় মিছিল থেকে বাসায় ফেরার পথে খুন হন এই ছাত্রদল নেতা।

চলতি বছরের ১৩ জুন সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিল ছাত্রদলের বিদ্রোহী একটি গ্রুপ। রাজু ছিল এই গ্রুপেরই কর্মী। গত ৯ জুলাই আরিফুল হক চৌধুরীর প্রচারণায় সিলেট এসে ছাত্রদলের বিদ্রোহীদের বাধার মুখে পড়েন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ। ওই দিন ছাত্রদলের বিদ্রোহীরা ঘোষিত বর্তমান কমিটির দুই কর্মীর ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে। সেই হামলার প্রতিশোধ নিতে মূলত ১১ আগস্ট শনিবার বিকেলে রাজুকে খুন করা হয়। আহত হন তার দুই বন্ধু উজ্জ্বল ও মুস্তাফিজ।

এদিকে দুই দফা নামাজে জানাজা শেষে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার শাহপুর গ্রামে দাফন করা হয়েছে ছাত্রদল নেতা ফয়জুল হক রাজুকে। গতকাল রোববার বাদ এশা গ্রামের বাড়ি রাজনগরের শাহপুরে দ্বিতীয় জানাযার নামাজ শেষে তাকে দাফন করা হয়।

গতকাল বিকেল ৩টায় সিলেট নগরীর উপশহর এ-ব্লক মসজিদে রাজুর প্রথম জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় অংশ নেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সদ্য নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব রব চৌধুরী ফয়সল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরীসহ দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।

জানাযা শেষে রাজুর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার শাহপুর গ্রামে। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান আহমদ চৌধুরী ও জেলা বিএনপি নেতা মইনুদ্দিন সোহেল এ সময় সাথে ছিলেন। লাশ পৌঁছার পর সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন- নিহত রাজুর পরিবার থেকে এখনো মামলা দেয়া হয়নি। আটককৃত তিন ছাত্রদল নেতাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহত রাজুর পিতা ফজর আলী জানিয়েছেন- ‘তার ভাই মামলার বিষয়টি দেখছেন। এ ছাড়া ঘটনায় আহত তার ভাগিনা এখনো ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি। তাঁরা তো দেখেছে কারা রাজুকে খুন করেছে। এ কারণে প্রকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দেবো। অযথা যাতে কেউ আসামি না হয় সেদিকে আমরা নজর দিচ্ছি। রাতে থানায় এজাহার নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান তিনি।’ পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে- রাতে রাজুর হত্যার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

আরফিুল হক চৌধুরী রাজুর লাশ দেখতে গিয়ে গণমাধ্যমকে জানান, অপরাধী যেই হোক না কেন তার কোনো ক্ষমা নেই। তিনি পুলিশকে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আসল খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।