নিজস্ব প্রতিবেদক:: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় একদিকে হত্যার অভিযোগ তুলে বিচারের দাবি উঠেছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। শুক্রবার মানববন্ধন করেছেন মুন্নির স্বজন ও স্থানীয়রা। এর আগে সকালে সংবাদ সম্মেলনে ওসি জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে আত্মহত্যায় প্ররোচনার বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিকেলে পৌরশহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেন, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি, অপমৃত্যুর মামলা গ্রহণ, বিভিন্ন আলামত থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধার না করা এবং মরদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকার পরও অভিযুক্তদের আটক না করায় এসব প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, কোনো প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে মুন্নির মৃত্যুর ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল গনির সভাপতিত্বে এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কাদির পলাশ ও সাবেক ছাত্রনেতা মুস্তাফিজুর রহমান রাজনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রবাসী সাংবাদিক নুরুল ওয়াহিদ, কমিউনিটি নেতা ও রাজনীতিবিদ আহমেদ রিয়াজ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবিদুর রহমান, ইউপি সদস্য ফখরুল আলম, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুরমান আহমদ, মুন্নির বাবা মকবুল আলী, মা রেনু বেগম, খালাতো ভাই মাছুম আহমদ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আরিফুল ইসলাম, সাংবাদিক হাসান শামীম, সমাজসেবক খালেদ আহমদ, জামায়াত নেতা রবিউল ইসলাম সুহেল, শাহিন আহমদ, সদর ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ লুৎফুর রহমান, সমাজসেবক শাহাব উদ্দিন, শিপার আহমদ, ফয়ছল আহমদ, ছাত্রনেতা তানিম আহমদ।
মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করেন। এ বিষয়ে মুন্নি ভিডিও ও খুদে বার্তার মাধ্যমে তাঁর বাবা-মাকে জানান। পরে তিনি স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। পরিবারের দাবি, পরে এক মুরব্বি ফোন করে তাঁদের জানান, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পরিচয়ে এক ব্যক্তি মুন্নির বাবাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাথরুমে মুন্নির ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তাদের দাবি, শ্বশুরবাড়ির ননদ, শাশুড়ি ও ভাসুর মুন্নিকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাঁর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
এদিকে, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার সকালে বড়লেখা থানায় সংবাদ সম্মেলন করেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান। তিনি বলেন, মরিয়ম আক্তার মুন্নির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে মরদেহে আঘাতের চিহ্ন এবং ঘটনার আগে মুন্নির বাবার মুঠোফোনে পাঠানো ভিডিও কল ও খুদে বার্তা পর্যালোচনা করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, মুন্নির বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করলে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত না হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, অসত্য বা উসকানিমূলক তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ধরনের প্রচারণা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হতে পারে।



