মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

বড়লেখায় মাদ্রাসার দুই ছাত্র নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার



বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: মৌলভীবাজারে বড়লেখায় জামিয়া মাদানীয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) রাত সাড়ে দশটায় থেকে তারা নিখোঁজ হয়। তাদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এই ঘটনায় দুই ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে বড়লেখা থানায় পৃথকভাবে জিডি করা হয়েছে।

নিখোঁজ দুই মাদ্রাসার ছাত্র হলো উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের সফরপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী ছাদ উদ্দিনের ছেলে তারেক আহমদ রাফি (১৫) এবং বড়লেখা পৌরসভার দক্ষিণ বারইগ্রামের দুবাই প্রবাসী বদরুল ইসলামের ছেলে সাইদুল ইসলাম (১৪)।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও নিখোঁজ দুই ছাত্রের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার (১০ নভেম্বর) রাতে বড়লেখা পিসি মডেল স্কুল মাঠে আস সুন্নাহ মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত নাশিদ ও কেরাত প্রতিযোগিতায় বড়লেখা পৌরশহরের অবস্থিত জামিয়া মাদানীয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্ররা অংশ নেয়। এতে রাফি এবং সাইদুল ছিল। ওইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে রাফি ও সাইদুল অনুষ্ঠান (নাশিদ ও কেরাত প্রতিযোগিতা) থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা মাদ্রাসায় না ফেরায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ওইদিন রাত ১২টার দিকে বিষয়টি তাদের স্বজনদের জানায়। এরপর থেকে রাফি এবং সাইদুলের পরিবার সম্ভাব্য বিভিন্নস্থানে খোঁজ করেও তাদের কোনো সন্ধান পাচ্ছে না।

রাফির মামা ব্যবসায়ী জাবেদ আহমদ শনিবার বিকেলে জানান, রাফি আমার চাচাতো বোনের ছেলে। সে বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। ও খুব শান্ত প্রকৃতির। লেখাপড়াতেও ভালো। রাত ১২টার দিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফোন দিয়ে জানায় রাফি ও তার সহপাঠী সাইদুলকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের সাথে ফোনও নেই। এরপর থেকে আমরা সব জায়গায় খুঁজেছি। কিন্তু তাদের কোনো হদিস মিলছে না। এবিষয়ে আমার থানায় জিডি করেছি। রাফির সহপাঠী সাইদুলের পরিবারও থানায় জিডি করেছে।

জামিয়া মাদানীয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমিন শনিবার বিকেলে বলেন, আমরা মাদ্রাসার সব ছাত্রকে স্নেহ করি। তাদেরকে পড়ার জন্য কোনোধরনের চাপ দেওয়া হয়না। শুক্রবার (গতকাল) রাতে বড়লেখা পিসি স্কুল মাঠে আয়োজিত কেরাত ও নাশিদ প্রতিযাগীতায় হিফজ শাখার সকল ছাত্ররা অংশ নেয়। এতে রাফি এবং সাইদুলও ছিল। একটি সিসি ক্যামেরায় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের দেখা গেছে। এরপর তাদের মিলছে না। মাদ্রাসায়ও ফেরেনি। রাতেই বিষয়টি আমরা তাদের স্বজনদের জানাই। আমি ধারণা করছি তারা দুজন সমবয়সী, হয়তো না জানিয়ে কোথাও বেড়াতে গেছে। আর আমাদের মাদ্রাসার সুনাম আছে। এজন্য কিছু শত্রুও আছে। হয়তো এরা আমাদের বেকায়দায় ফেলতে তাদের কোথাও নিয়ে রেখেছে।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, মাদ্রাসার দুই ছাত্র নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক জিডি করা হয়েছে। আমরা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছি।