শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

বড়লেখায় প্রবাসীর ৫ কোটি টাকার ভূমি দখলের চেষ্টা সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর
২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি



বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র বদরুল ইসলাম নামে এক দুবাই প্রবাসী ফারফিউম ব্যবসায়ীর ৫ কোটি টাকার ভূমি জবর-দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, চক্রটি চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ওই প্রবাসীর ভূমির সীমানা প্রাচীর ও সাইনবোর্ড ভেঙে দিয়েছে। এমনকি ওই প্রবাসীকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এব্যাপারে ভুক্তভোগী প্রবাসী ভূমি জবর-দখল অপচেষ্টাকারী উপজেলার চান্দগ্রামের করিম উদ্দিন, কালা মিয়া (কালা ড্রাইভার), তাহির আলী, সুড়িকান্দির মাহবুব আহমদ ও টুকা গুলুয়ার শংকর দাসের নাম উল্লেখ ও আরো ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে গত সোমবার বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন (মামলা নং-সিআর-১৯২/২৩)। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সরেজমিন ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের রফিনগর গ্রামের দুবাই প্রবাসী বদরুল ইসলাম (৬৪) চান্দগ্রামের লন্ডন প্রবাসী ফয়জুল বারী চৌধুরীর নিকট থেকে দাসেরবাজারে লঘাটি মৌজায় ৭১ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকার ওপরে। বদরুল ইসলাম হার্টের রোগী হওয়ায় ওই ভূমি তিনি তার ছেলে কামরুল ইসলামের নামে দলিল (দলিল নং-২১৭৫/২০২০) করে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ছেলের নামে ওই ভূমি রেকর্ডভুক্তও করেন। সম্প্রতি বদরুল ইসলাম দেশে এসে ওই ভূমির সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে অভিযুক্তরা বাধা বিপত্তি শুরু করে। তারা ওই জমি ভোগ দখল ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে হলে প্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা গত ৪ মে ভোরে সদ্য নির্মিত সীমানা প্রাচীরের ৬শ’ ফুট স্থান ভেঙে ফেলেছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসী ব্যবসায়ী বদরুল ইসলাম জানান, সব কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্র ভূমি দখলের উদ্দেশ্যে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাঁধা দেয়। পুলিশ দিয়ে কাজ বন্ধ করায়। পরে থানার ওসির ডাকে কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় পুলিশ আমাকে কাজের অনুমতি দেয়। এরপর তারা নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি রাজি না হওয়ায় ৬০০ ফুট সীমানা প্রাচীর ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করেছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুর রহমান জানান, বদরুল ইসলাম তার ক্রয়কৃত ভূমিতে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করলে করিম উদ্দিন, কালা মিয়া, তাহির আলী গংরা কাজে বাঁধা দেন। পুলিশ দিয়ে কাজ বন্ধ করায়। পরে পুলিশের কাছে কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় পুলিশ বদরুল ইসলামকে কাজের অনুমতি দেয়। কাজ শেষ হওয়ার পর কে বা কাহারা ৫-৬শ’ ফুট ওয়াল ভেঙে ফেলেছে। তাদের কার্যকলাপে মনে হচ্ছে তারাই প্রবাসীর ওয়াল ভেঙেছে।

এব্যাপারে ভূমি বিক্রেতা ফয়জুল বারী চৌধুরীর মেয়ে লন্ডন প্রবাসী সাদিয়া বেগম মুঠোফোনে জানান, তার বাবা প্যারালাইসড রোগী। চলাফেরা ও কথা বলতে পারেন না। তবে তার বাবার ক্রয়কৃত ৭১ শতাংশ ভূমি তিনি দুবাই প্রবাসী বদরুল ইসলামের নিকট বিক্রি করেছেন। এখন ওরা কেন উনাকে ডিস্টার্ব করছে তা তিনি বুঝতেছেন না।

এব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত করিম উদ্দিন, কালা মিয়া, তাহির আলী, মাহবুব আহমদ গংদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান জানান, প্রবাসীর জায়গায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলাকালে কিছু লোক থানায় এসে অভিযোগ করায় কাজ বন্ধ করান। পরে উভয়পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় ডাকা হলে বাঁধাদানকারীরা সঠিক কাগজপত্র দেখাতে না পারায় প্রবাসী বদরুল ইসলামকে কাজের অনুমতি দেন। হুমকি-ধমকি ও প্রাচীর ভাঙার ব্যাপারে প্রবাসী থানায় জিডি করেন। তবে আদালত থেকে এ সংক্রান্ত একটি মামলা এসেছে। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক তিনি ব্যবস্থা নেবেন।