বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

সিলেটে প্রবাসী প্রার্থীরা মাঠে



বিজ্ঞাপন

লাতু ডেস্ক:: সিলেট-৩ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব ও সিলেট-২ আসনের এমপি মোকাব্বির খান লন্ডন প্রবাসী। ছাত্রজীবন সিলেটে কাটলেও বিদেশ ঘুরে এসে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে নামেন তারা। হয়েছেন পার্লামেন্ট সদস্যও। এর আগে সিলেট-২ আসনের এমপি ছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী, ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়া ও সিলেট-৫ আসনের সাবেক এমপি সেলিম উদ্দিন। তারাও ছিলেন প্রবাসী। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে। এখানেও এসেছে প্রবাসী নেতাদের আধিক্য। আওয়ামী লীগের নৌকার টিকিটের জন্য মাঠে নেমেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। সিলেটের রাজনীতিতে প্রবাসীদের আধিক্য বাড়ছে। শুধু পার্লামেন্টেই নয়, উপজেলা, ইউনিয়ন নির্বাচনেও জয়ী হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রবাসী প্রার্থীরা।

ফলে দিনে দিনে সিলেটের ৬টি নির্বাচনী আসনে বেড়েই চলেছে প্রবাসী প্রার্থীদের সংখ্যা। তাদেরকেও সাদরে বরণ করছেন সিলেটের মানুষ। নেতা হিসেবেও তাদের কাছ থেকে পাচ্ছেন সমাদর। বিশেষ করে ঘুষ, দুর্নীতির অভিযোগ নেই প্রবাসী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। এ কারণে সিলেটের রাজনীতিতেও প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্তিকে সহজেই মেনে নিচ্ছেন সবাই। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই সিলেটমুখী হয়েছেন প্রবাসী প্রার্থীরা। রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই চলে এসেছেন দেশে। নিজেদের উদ্যোগে করছেন সমাজসেবা। ইতিমধ্যে সিলেট জেলার ৬টি নির্বাচনী আসনে অন্তত এক ডজন প্রবাসী ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়েছেন।

তারা দেশের প্রার্থীদের সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্ধিতার আভাস দিচ্ছেন। সিলেট-২ আসনে বর্তমান গণফোরাম দলীয় এমপি মোকাব্বির খান প্রবাসী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন। তবে দেশের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা সবসময়ই ছিল। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি গণফোরামের হয়ে নির্বাচন করেন এবং জয়লাভ করেন। এবারো তিনি প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। নির্বাচনী বছরে এসে তিনি নিজ এলাকা ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথে কার্যক্রম বাড়িয়েছেন। অসমাপ্ত কাজ নির্বাচনের আগেই শেষ করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। এ আসনটি ২০০৮ সাল থেকেই প্রবাসীদের দখলে। ২০০৮ সালে বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতা এম ইলিয়াস আলীকে প্রবাস থেকে এসে প্রার্থী হয়ে পরাজিত করেছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে ভাগ্য তার সহায় হচ্ছে না। শরিক দলের কাছেই যাচ্ছে মনোনয়ন। এ আসনে জাতীয় পার্টির থেকে ২০১৪ সালে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও সিলেট মহানগর সভাপতি ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়া। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তিনি পরাজয়বরণ করলেও মাঠে রয়েছেন। তিনি দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। তবে জাতীয় পার্টির আরেক নেতা ফখরুল ইসলাম সোহেল ইতিমধ্যে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। তিনি এবার লাঙলের টিকিট চান। এরইমধ্যে ঢাকায় কেন্দ্রের সঙ্গে লবিং করছেন। এলাকায়ও কাজ করছেন জাতীয় পার্টির যুক্তরাজ্য শাখার এ নেতা। সিলেট-৩ আসনের বর্তমান এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা। তবে সবসময় নিজের এলাকার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল।

২০০৮ সাল থেকেই চাইছিলেন নৌকার মনোনয়ন। অবশেষে এ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে তিনি নৌকার টিকিট পান। এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে এলাকায় কাজও করেছেন হাবিবুর রহমান হাবিব এমপি। নজর কেড়েছেন মানুষের। আগামী নির্বাচনেও তিনি নৌকার টিকিট নিয়ে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ আসনে নৌকার টিকিট চান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আসম মিসবাহ। তার পক্ষেও এলাকায় পোস্টারসহ নানা প্রচারণা চলছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশও তার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকরা। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের আরেক নেতা মনির হোসাইন এ আসনে নৌকার টিকিটের প্রত্যাশী হয়ে মাঠে রয়েছেন। সিলেট-৩ আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র মনোনয়ন চাইছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও বিএনপি’র সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম। সে লক্ষ্যে তার পক্ষ থেকে এ আসনে কাজও করা হচ্ছে। তিনি নিজে এসেও এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকা-ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বিএনপি নির্বাচনে গেলে ব্যারিস্টার সালাম এবারো এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন। সিলেট-৪ আসনে নৌকার টিকিটের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশায় রয়েছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা গোলাপ মিয়া।

গত নির্বাচনেও তিনি নৌকার জন্য দলীয় ফোরামে লড়াই করেন। এরপর থেকে তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হয়ে রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি। সিলেট-৫ আসনের সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা প্রবাসী সেলিম উদ্দিন। আসন ভাগ-বাটোয়ারায় তিনি পেয়েছিলেন মহাজোটের সমর্থন। গেল নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি। এবার সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসন থেকে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চান সাবেক ছাত্রনেতা ও যুক্তরাজ্য জাতীয় পার্টির নেতা জাকির হোসেন। বিগত বন্যায় ও করোনায় তিনি মানুষের কাছাকাছি ছিলেন। কেন্দ্রে রয়েছে তার শক্তিশালী অবস্থানও। সিলেট-৬ আসনে ২০০৮ সাল থেকে নৌকার টিকিট চাচ্ছেন কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরওয়ার হোসেন। বিগত ১৫ বছর ধরে এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে তার। ক’দিন আগে সিলেটে নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কানাডার নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া লন্ডন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফসার খান সাদেকও এ আসনে নৌকার টিকিট চাইছেন।