মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



বড়লেখায় রিমান্ড শেষে মোটরসাইকেল চোর মারুফ কারাগারে
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক



বিজ্ঞাপন

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মোটরসাইকেল চোরচক্রের অন্যতম হোতা মারুফ হোসেন ওরফেসুমনকে রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার বিকেলে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অমিতাভ দাস তালুকদার। তিনি জানান, মারুফকে ১ দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছিল। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কয়েকজন মোটরসাইকেল চোরের নাম সে বলেছে। তবে এরা স্থানীয় নন। রিমান্ড শেষে তাকে আবার কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মারুফ মোটরসাইকেল চোর চক্রের অন্যতম হোতা। সাম্প্রতিক সময়ে বড়লেখা থেকে কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। এর সঙ্গে সে জড়িত রয়েছে। কোনো মোটরসাইকেল চুরির আগে মারুফ মোটরসাইকেল মালিককে ফলো করত। পরে সুযোগ মতো তা চুরি করে নিয়ে যেত। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, মারুফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অমিতাভ দাস তালুকদার ২৪ সেপ্টেম্বর সোমবার বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান জামানের আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন এপিপি গোপাল দত্ত ও জিল্লুর রহমান এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী হারুনুর রশীদ ও সুব্রত কুমার দত্ত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বড়লেখা পৌরশহরের মসজিদ মার্কেটের সামনে কয়েকটি মোটরসাইকেল রাখা ছিল। এরমধ্যে রাখা উপজেলার বারইগ্রামের ওলিউর রহমানের ফ্যাশন প্রো মডেলের একটি মোটরসাইকেল লক খোলার চেষ্টা করেন মারুফ। এতে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সন্দেহ হয়। তারা ‘চোর’ বলতেই সে দৌঁড় দেয়।

একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। এসময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মারুফকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। ঘটনার পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে মোটরসাইকেল মালিক ওলিউর রহমান বাদি হয়ে মারুফের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ২ জনকে আসামি করে বড়লেখা থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার বিকেলে বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান জামানের আদালতে নেওয়া হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেন। মারুফ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার চানশীরকাপন এলাকার মৃত আরিফ মিয়ার ছেলে।

সূত্র জানায়, মারুফ ২০১৭ সালে ৯ ডিসেম্বর সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জ বাজারে মোটরসাইকেল চুরির সময় স্থানীয় লোকজনের হাতে ধরা পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। এরপর জেল থেকে বেরিয়ে আবারও সে মোটরসাইকেল চুরিতে জড়িয়ে পড়ে। এর আগে আরও দুইবার বিয়ানীবাজার উপজেলায় মোটরসাইকেল চুরির সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছিল মারুফ।