বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



গোলাপগঞ্জে আ’লীগ-বিএনপি ছাড়া প্রার্থী দেয়নি কেউ



বিজ্ঞাপন

জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ:
গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মনোনীত বা দলীয় প্রতীক নিয়ে কোন প্রার্থীকে এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেখা যাবেনা ।

৯ সেপ্টেম্বর রোববার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে উপজেলা নির্বাচন অফিসে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেখা যায়নি। তবে এদিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়াও আওয়ামী লীগের ১জন বিদ্রোহী প্রার্থী ও ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন জমা করেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে সিলেট জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও পৌর উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা খুরশেদ আলমের নিকট নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ পাপলু, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রাজু আহমদ চৌধুরী, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাবেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মহিউসুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তিনজন প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠালে সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু গত পৌর নির্বাচনের মতো এবারো নৌকার মাঝি হন।

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি অনেক নাটকীয়তার পর তাদের মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন। এবারও তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। কিন্তু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার আর আগ্রহ নেই তার। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কথা আগেই জানিয়েছেন তিনি। গত ৫ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির সভায় আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিউস সুন্নাহ চৌধুরী নার্জিসকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়।

তবে তার একদিন পরই দলীয় মনোনয়ন ফিরিয়ে দিয়ে মহিউস সুন্নাহ জানিয়েছেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। এরপর এ দলটি শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রাজু আহমদ চৌধুরীকে প্রার্থী মনোনীত করে।

এদিকে গত পৌর নির্বাচনে খেলাফত মজলিস তাদের প্রার্থী দিলেও এবারের উপ-নির্বাচনে তাদের কোন প্রার্থী দেয়া হবেনা বলে জানিয়েছিলেন খেলাফত মজলিসের পৌর শাখার সভাপতি এম আব্দুল জলিল। এ ব্যাপারে জলিল জানান, গত নির্বাচনে খেলাফত মজলিস নেতা আমিনুল ইসলাম আমিনকে তাদের প্রার্থী দিলেও এবার কোন প্রার্থী দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে গত পৌর নির্বাচনের মতো এবারো জামায়াত তাদের কোন প্রার্থী দেয়নি। এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির নাসির আহমদ বলেন, পৌরসভা উপ-নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত কোন প্রার্থী দেওয়া হয়নি। অন্য কোন প্রার্থীকে সমর্থন জামায়াত দেবে কি-না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোন সিদ্ধান্তে আমরা পৌঁছাইনি। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।

এছাড়াও জাতীয় পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামও তাদের কোন প্রার্থী দেবেনা বলে আগেই জানা গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক মুজিবুর রহমান মুজিব জানান, গোলাপগঞ্জ পৌর উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে কোন প্রার্থী দেওয়া হয় নি।

উল্লেখ, গত ৩১ মে বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরী মৃত্যুবরণ করায় মেয়র পদটি শূন্য হয়। শূন্য পদে নির্বাচনের জন্য তফশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩ অক্টোবর পৌর মেয়র পদের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ৯ সেপ্টেম্বর, মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ দিন ১০ সেপ্টেম্বর এবং ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।