মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



বড়লেখায় ৮ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আরকান আলী সড়ক’র কাজ



বিজ্ঞাপন

দেলোয়ার হোসাইন:
যে মানুষটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা গ্রুপের কমান্ডার হিসেবে অসীম সাহস নিয়ে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন। যিনি সিলেট অঞ্চলকে হানাদারমুক্ত করতে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা যিনি নিতে চাননি, পরে আত্মীয়-স্বজনের পীড়াপীড়িতে ভাতা গ্রহণ করলেও প্রাপ্ত সব ভাতা গরীব-দুঃখীর মাঝে বিলিয়ে দিতেন। সেই মানুষটির মৃত্যুর পর তাঁর আত্মীয়-স্বজন, মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর কোনো কিছুর চাওয়ার ছিলো না। খুব বড় কিছুর দাবিও নেই। মাত্র দুই কিলোমিটার একটি সড়ক তাঁর নামে নামকরণ! তাও দীর্ঘ ৮ বছরে বাস্তবায়ন হয়নি।
বলছিলাম- মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার ৪নং উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ভাটাউচি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোহাম্মদ আরকান আলীর কথা। জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব শাহাব উদ্দিন এমপি’র (তৎকালীন সাংসদ) অঙ্গীকারের পর মরহুম মোহাম্মদ আরকান আলীর নামে ‘ভাটাউচি-ভবানীপুর-গোয়ালী’ সড়কের নামকরণ হলেও এখনো পাকাকরণ হয়নি।

২০ এপ্রিল শুক্রবার ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আরকান আলী সড়ক’র নামফলক স্থাপন করা হয়

জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আরকান আলী ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর আমেরিকায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর ইন্তেকালের পর ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় শাহবাজপুর বাজারে এক শোক সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত শোক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব শাহাব উদ্দিন এমপি। শোক সভায় মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও এলাকার গন্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গরা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোহাম্মদ আরকান আলীর নামানুসারে এলাকার যেকোন একটি সড়ক অথবা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের দাবি জানান। এই দাবির প্রেক্ষিতে শাহাব উদ্দিন এমপি ‘ভাটাউচি-ভবানীপুর-গোয়ালী’ সড়কটি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আরকান আলী সড়ক’ হিসেবে নামকরণের ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি সড়কটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পাকাকরণ কাজ দ্রুত শেষ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন।

নামকরণের ঘোষণা পর তখনকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কার্যত কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তবে এলাকার জনসাধারণের পক্ষ থেকে সড়কের নামকরণ ও পাকাকরণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় এমপি এবং উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর বেশ কয়েকবার আবেদন জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। পরে স্থানীয় উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটনের প্রচেষ্টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোহাম্মদ আরকান আলীর নামে ‘ভাটাউচি-ভবানীপুর-গোয়ালী’ সড়কটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের তালিকায় অন্তর্ভুক্তও করা হয়। এ লক্ষে গত ২০ এপ্রিল শুক্রবার ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আরকান আলী সড়ক’র নামফলক স্থাপন করেন আহমদ জুবায়ের লিটন।

‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আরকান আলী সড়ক’র নামফলক

এ বিষয়ে মরহুম মোহাম্মদ আরকান আলীর ভাতিজা মো. সুলেমান বলেন, আমরা ‘ভাটাউচি পাকা রাস্তার মুখ থেকে বোয়ালী পাকা রাস্তার মুখ পর্যন্ত’ সড়কটি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোহাম্মদ আরকান আলী নামে নামকরণ ও পাকাকরণের জন্য হুইপ মহোদয়ের কাছে পাঁচ-ছয় বার লিখিত আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় সড়কের নামকরণ হলেও এখনো পাকাকরণ হয়নি।

উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন বলেন, মাননীয় হুইপ আলহাজ্ব শাহাব উদ্দিন এমপি মহোদয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভাটাউচি-ভবানীপুর-গোয়ালী সড়কের নাম হবে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আরকান আলী সড়ক’। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সড়কটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, নামফলকও স্থাপন করা হয়েছে। এ লক্ষে সড়কে একটি কালভার্ট নির্মাণসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মাটি ভরাটের কাজ করে সড়কটি পাকাকরণের উপযুক্ত করেছি। সড়কটি পাকাকরণের জন্য হুইপ মহোদয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। আশা করছি এ বছরই পাকাকরণের কাজ শুরু হবে।