রবিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



ইউএস-বাংলা ট্র্যাজেডি: মেডিকেল কলেজের সেই ৯ নেপালি পাস করেছেন
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনার ক্ষত শুকায়নি এখনো। এতে সিলেটের জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২ শিক্ষার্থী প্রাণ হারান।

এদের মধ্যে ঘটনাস্থলে ১১ জন ও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেকজন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরেক শিক্ষার্থী।

সহপাঠীদের হারিয়ে যেমন শিক্ষার্থীরা, তেমনি প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের অকাল প্রয়াণে ব্যথিত শিক্ষকরাও। মানবসেবার ব্রত নিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে সুদূর নেপাল থেকে তারা সিলেট আসেন।

তিলে তিলে নিজেদের লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যান। চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা শেষে দুই মাসের ছুটিতে নিজদেশে ফেরার স্বপ্ন ছিল চোখে মুখে। মাস দু’য়েক পর ফিরে ফলাফল হাতে পেয়ে ইন্টার্নি শেষ করে পুরোপুরি ডাক্তার হয়েই দেশে ফেরার কথা ছিল।

পরীক্ষা শেষে ছুটিতে দেশে ফেরার পথে গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলে রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১১ শিক্ষার্থী মারা যান। দু’জন গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনাকবলিত ইউএস-বাংলার বিমানে যাত্রী ছিলেন রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী— সঞ্জয় পৌডেল, সঞ্জয়া মহারজন, নেগা মহারজন, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠা, পূর্ণিমা লোহানি, শ্রেতা থাপা, মিলি মহারজন, শর্মা শ্রেষ্ঠা, আলজিরা বারাল, চুরু বারাল, শামিরা বেনজারখার, আশ্রা শখিয়া ও প্রিঞ্চি ধনি।

এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা মেডিকেল কলেজে। প্রিয় সহপাঠীদের হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। এছাড়া স্বদেশি সিনিয়দের হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন কলেজের নেপালী শিক্ষার্থীরা। কলেজ কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে হতাহতদের পাশে দাঁড়াতে প্রতিনিধিদল নেপালে পাঠায়। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ তিন দিনের শোক পালন করে।

সম্প্রতি হাসপাতালের চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। পাস হওয়া শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নি শুরু করেছেন। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের মধ্যে ৯ জন পাস করেছেন। নিয়তির নির্মম পরিহাসে নিহতদের সনদ আর কাজে আসবে না। তবে নিহতদের পরিবার চাইলে সনদ তুলতে পারবে।

জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আরমান আহমদ শিপলু বলেন, ‘নেপালে দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে ৮/৯ জন পাস করেছে। নিয়ম অনুযায়ী ইন্টার্ন করার পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ তুলতে হয়। পবিরারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে সনদ তুলতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘নিহতদের স্মরণে তিন দিনের শোক পালন করা হয়। হতাহতদের খবর নিতে প্রতিনিধিদল নেপাল সফর করেছে। নিহতদের ছবি দিয়ে কলেজে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে।’