বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



চোরাই আইফোনের ১০ সিন্ডিকেট
খবর: মানবজমিন

খবর: মানবজমিন



বিজ্ঞাপন

দেশে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা চোরাই ফোনের কেনাবেচা বেড়ে গেছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা চোরাই আইফোনের প্রায় ১০টি সিন্ডিকেট সক্রিয়। এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের আমদানিকারক বলে ঘন ঘন বিদেশে যায়। তারা বিদেশ থেকে আকাশ পথে দেশে নিয়ে আসে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী। ওইসব পণ্য সামগ্রীর মধ্যে কৌশলে অথবা তাদের ব্যবহৃত একাধিক বড় বড় লাগেজে করে বিদেশি দামি আইফোন নিয়ে আসে।

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা মাঝে মাঝে কিছু আইফোন বিমানবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তারা এবং ঢাকা কাস্টম কর্তৃপক্ষের সদস্যরা জব্দ করেন।
কিন্তু, চোরাকারবারিরা কৌশলে অধিকাংশ চোরাই আইফোন তাদের আমদানিকৃত পণ্য এবং অথবা লাগেজের মধ্যে রেখে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যায়। পরে তারা ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন অভিজাত মার্কেটগুলোতে সরবরাহ করে। চোরাই আইফোনের সিন্ডিকেটের সঙ্গে ঢাকার হযরত শাহজালাল (র) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কিছু অস্বাধু কর্মকর্তা এবং একাধিক শুল্ক কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা গেছে।

চোরাই আইফোনের সিন্ডিকেটের সদস্যরা সক্রিয় হওয়ার কারণে সরকার মোটা অঙ্কের শুল্ক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিচালক কাজী মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, চোরাই আইফোনের কেনাবেচার সঙ্গে বিদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্যের আমদানিকারী কিছু ব্যবসায়ী জড়িত। শুল্কবিহীন কোনো পণ্য আমরা দেশের বাজারে বিক্রি করতে দিবো না। চোরাই মোবাইল ফোন ধরার ক্ষেত্রে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চোরাই আইফোনের প্রায় ১০টি সিন্ডিকেট সক্রিয়।

চোরাই সিন্ডিকেটের সদস্যরা যখন তাদের পণ্য নিয়ে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আসে তখন তাদের সেইসব পণ্য যথাযথভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় না। স্ক্যানার মেশিনে অবৈধভাবে আমদানিকৃত আইফোনগুলো স্পষ্ট দেখা গেলেও তারা সেইসব পণ্যগুলোকে রিলিজ করে দেয়। একারণে সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের প্রত্যেক মাসে মোটা অঙ্কের মাসোহারা প্রদান করে। সিন্ডিকেটের সদস্যরা মাসে একাধিকবার বিদেশে গেলেও তারা কেন এত ঘন ঘন বিদেশে যান তা ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা তাদের কোনো প্রশ্ন করেন না। প্রত্যেক সিন্ডিকেটে ১০ থেকে ১২ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে।

এই চক্রের কয়েকজন সদস্য এর আগে একাধিকবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিপ্তরসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে তারা আদালতের মাধ্যমে জামিনে রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন আজিজুল হক, শিশু খেলনার পণ্য আমদানিকারী, বাড়ি ফেনীর দাগনভূইয়া এলাকায়। সরদার মাসুদ। ইলেকট্রিক পণ্য আমদানিকারী। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরেরসরাই। এলাম হোসেন। ইলেকট্রিক পণ্য আমদানীকারী। গ্রামের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর। আমজাদ হোসেন সেলিম। পেইন্ট আমদানীকারী। গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এলাকা। তারা তাদের আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে কৌশলে লুকিয়ে এই চোরাই ফোন দেশে নিয়ে আসে।

এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা কখনও দুইজন অথবা কখনও দল বেঁধে দক্ষিণ কোরিয়া, দুবাই ও মালয়েশিয়া যান। এরপর ওই দেশের দামি আইফোন ক্রয় করে তারা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে নিয়ে আসেন। সেই ফোনগুলো তারা বাজারের অভিজাত শপিংমলের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে। তবে এই চক্রের সদস্যর চোরাই আইফোনগুলো ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত দোকানের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের বড় বড় মোবাইল ফোনের দোকানে সরবরাহ করে। আমদানিকৃত আইফোনগুলোর অধিকাংশই হচ্ছে, স্যামসাং, সনি ও সিম্ফোনি কোম্পানির। যারা এই আইফোন আমদানির মূল হোল্ডার তারা দেশে শুল্ক দিয়ে বিদেশ থেকে আইফোন আমদানি করার কথা এবং তাদের কাছ থেকে ওইসব আইফোন পাইকারি বিক্রেতা বা বড় দোকানিদের কেনার কথা। কিন্তু উল্টোটি ঘটছে। বিভিন্ন খুচড়া পণ্যের আমদানিকারকরা চোরাইভাবে আইফোন আমদানি করছে।

এরপর তারা দেশের বিভিন্ন অভিজাত শপিং মলে সরবরাহ করছেন। দোকানিরা তাদের কাছ থেকে সস্তা মূল্যে ওইসব আইফোন কিনছেন। বেশি লাভের আশায় সেগুলো বৈধ না অবৈধ তা বাছবিচার করছেন না। জানা গেছে, ১০০ ফোনের দাম প্রায় ১ কোটি টাকা। চোরাকারবারিরা ১০০টি আইফোন দেশে কোনোভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নিয়ে এলে ন্যূনতম ২০ লাখ টাকা লাভ করে। অধিক লাভজনক হওয়ার কারণে সিন্ডিকেটের সদস্যরা এই চোরাকারবারে জড়িয়ে পড়েছে।