শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



বিশ্বনাথে কাজের মেয়েকে ধর্ষণ: ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন গৃহকর্তা
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা কাজের মেয়েকে চুরির মামলায় ফাঁসাতে এসে নিজেই ফেঁসে গেলেন সাঈদ আহমদ (৩৫) নামের এক গৃহকর্তা। তিনি উপজেলার রামধানা গ্রামের হাজী আবদুল্লাহর পুত্র। এ ঘটনায় কাজের মেয়ের মা বাদী হয়ে রোববার রাতে তাকে (সাঈদ) অভিযুক্ত করে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ২১, তাং ১৯/০৮/২০১৮।

ভিকটিম ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাঈদ আহমদ তার বাড়ির কাজের মেয়েকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিলেন। একাধিকবার ধর্ষণের ফলে এক পর্যায়ে কাজের মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি সে (কাজের মেয়ে) বাড়ির গৃহকর্তা সাঈদকে জানায়। গৃহকর্তা সাঈদ এ সংবাদ শুনার পর কাজের মেয়ের গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য নানান কৌশল অবলম্বন বিভিন্ন প্রকারেরঔষধ খাওয়ায়। এতে গর্ভের সন্তান নষ্ট না হলে সে (সাঈদ) কাজের মেয়ের গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করার জন্য গত ৮ আগস্ট সিলেট একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে যাওয়ার পর ধর্ষণকারী সাঈদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাজের মেয়ের গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে রাজি হননি।

ঐদিন তাকে বিয়ের করার জন্য অভিযুক্ত সাঈদকে প্রস্তাব দেয় মেয়েটি। এতে সাঈদ রাজি না হয়ে কৌশলে কাজের মেয়েটিকে তার বাড়িয়ে পাঠিয়ে দেয়। এরপর গত রোববার ওই ধর্ষণকারী গৃহকর্তা সাঈদ আহমদ মেয়ের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের করতে থানায় আসেন। মামলা করতে আসার পর (সাঈদ) তার কথাবার্তা শুনে সন্দেহ হলে তাকে আটকিয়ে রাখেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম। এরপর সেই কাজের মেয়েকে থানায় নিয়ে আসা হলে বেরিয়ে আসে ঘটনার আসল রহস্য। আর কাজের মেয়ের মুখ থেকে ধর্ষণ ও গর্ভের সন্তান নষ্ট করার এমন বর্ণনা শুনার পর ধর্ষণকারী গৃহকর্তা সাঈদ আহমদরে বিরুদ্ধে কাজের মেয়ের মা বাদী হয়ে দায়ের করার অভিযোগপত্রটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে থানা পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম।