নিজস্ব প্রতিবেদক:: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন করা হয়েছে। রোববার বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার পাহাড় ও সমতলে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে দিবসটি পালন করেন।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখা, বড়লেখা ইনডিজেনিয়াস পিপলস ডেভেলপমেন্ট ফোরাম এবং কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন, বড়লেখা শাখা যৌথভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আদিবাসী ফোরামের প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, বিভিন্ন পুঞ্জির বিদ্যমান ভূমি সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দসহ ১৪ দফা দাবি তুলে ধরেন।
বড়লেখা ইনডিজেনিয়াস পিপলস ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সভাপতি নারায়ণ কুর্মীর সভাপতিত্বে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় চা ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি রিপন কুর্মী ও বড়লেখা আদিবাসী যুব ফোরামের আহ্বায়ক জসিন্তা সুমের।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। তিনি আদিবাসীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে কয়েকটি দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া, বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান, বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্ণি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, জুড়ী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. আব্দুল কাইয়ুম, এমপি পত্নী ফৌজিয়া আহমদ, এমপি কন্যা ফাতেমা বিনতে আহমদ সানজিদা, বড়লেখা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব, জুড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুমন, আদিবাসী যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি তামলিমন বারে, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য ফাদার যোসেফ গোমেজ এবং আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন কুবরাজ, বড়লেখা শাখার সাধারণ সম্পাদক এলিয়াস বারে প্রমুখ।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গান, নৃত্য ও নানা পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়।



