শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

জগন্নাথপুরে ছুটি নিয়ে বিদেশে পাড়ি, ১৬ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় ১৬ শিক্ষকের নামে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার ফলে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী ১৬ শিক্ষক বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়।

অভিযুক্তশিক্ষকরা হলেন- কাওছার হামিদ, আফছানা খানম আন্নি, সৈয়দ ফুয়াদুস সালেহীন, শেরা আলী, নাছরিন জাহান শাহী, শামীমা বেগম, সাজিয়া খানম, শহিদুর রহমান, ইয়াছমিন বেগম, রোকশানা বেগম, শিপন সূত্রধর, রেবী বেগম, রাবিয়া বেগম, উম্মে হানিফা মিলি, ওলিউর রহমান সামি, এসএম আশা হক। এরা সবাই উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব জামান জানান, ‘অভিযুক্ত ১৭ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৬ জনের বিরুদ্ধে গত ২৪ অক্টোবর বিভাগীয় মামলা হয়েছে। অপর একজনের অনুপস্থিতির মেয়াদ দুই মাস না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়নি। তবে, সবার বেতন বন্ধ আছে এবং সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ সাধারণ ৩-৪ দিনের ছুটি, কেউ বা আবার চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন বলে মাসখানেকের ছুটিও নিয়েছিলেন। কিন্তু ছুটি শেষ হলেও তারা পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। অনেকে আবার কোনো ছুটি না নিয়েই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। কেন তারা পাঠদানে যোগদান করছেন না; কয়েক দফা চিঠি দিলেও তার কোনো সদুত্তর পায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ১৬ জন শিক্ষক বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষক যুক্তরাজ্যে সপরিবারে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

এ বিষয়ে সালদীঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের মধ্যে দুজন অনুপস্থিত। একজন এক মাসের ছুটি নিয়েছিলেন। অপরজন বিয়ের জন্য মৌখিক ৭ দিনের ছুটি নেন। শুনেছি তারা এখন বিদেশে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, উপজেলায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ছুটি না নিয়ে বিদেশে রয়েছেন। ফলে বিদ্যালয়ে পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাশ বলেন, ‘গত ৪ অক্টোবর উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ১৭ জন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য জেলা কর্মকর্তার কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।’