বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



বৃষ্টি হলেই জুড়ীর প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ চরমে
মন্ত্রীর নির্দেশের পরও হচ্ছে না সড়ক মেরামত!

মন্ত্রীর নির্দেশের পরও হচ্ছে না সড়ক মেরামত!



বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের ভবানীগঞ্জ বাজার এলাকার প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ চলাচল করে। জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অফিস থেকে বলা হয়েছে, ‘এ সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য নির্দেশনা পেয়েছি। দ্রুত কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

জানা গেছে, প্রায় সাড়ে নয় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের কাজটির কার্যাদেশ হওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নানান অজুহাতে কাজ শুরু করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে এ সড়ক দিয়ে চলাচলে জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এটি দেখার যেন কেউ নেই। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে। এ সড়কের বেহাল দশা হলেও ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষ উদাসীন।

সড়কের এ বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় (জুড়ী-বড়লেখা) সাংসদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন প্রায় দেড় মাস আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। মন্ত্রীর নির্দেশের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এখনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই সড়কের কাজ শুরু করেনি।

মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে জুড়ী নাইট চৌমুহনী থেকে ওই সড়কের ক্লাব রোড পর্যন্ত ১ হাজার ৩২০ মিটার সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ পায় সিলেটের মেসার্স হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড। গত বছর এ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। কার্যাদেশ হয়েছে গত দুই মাস আগে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের ভবানীগঞ্জ বাজারের নিউমার্কেট থেকে ক্লাব রোডের আব্দুল আজিজ মেডিকেল হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশা। অথচ এ সড়ক দিয়ে উপজেলার পশ্চিম জুড়ী, পূর্ব জুড়ী, গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার কয়েক সহস্রাধিক মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পানি নিষ্কাশনের নালা ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বাজার এলাকায় বারবার পুরোনো ইট তুলে নতুন ইট দিয়ে সলিং করা হয়। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়। যার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন থেকে এ সড়কের বেহাল দশা। এখানে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। যে কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এ সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলাবদ্ধতা লেগে থাকে। ওই এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে দোকানের মালামাল নষ্ট হচ্ছে। হাঁটুসমান পানিতে কাপড় ভিজিয়ে লোকজন যাতায়াত করে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল খান বলেন, বৃষ্টির সময় এ সড়ক দিয়ে চলাচল করলে কাদাপানিতে একাকার হতে হয়।

পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আনফর আলী বলেন, সড়কের কাজ শুরু না হওয়ায় এ সড়কে চলাচলকারী জনসাধারণ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটার জামিল ইকবাল বলেন, ইতিমধ্যে এ সড়কের কাজ শুরু করার জন্য সব সরঞ্জামাদি ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সড়কের কাজ শুরু হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ জুড়ী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে সড়কের কার্যাদেশও হয়ে গেছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বাজারের ভেতরের অংশে কাজ শুরু করে ফেলে রাখা যাবে না। তাই বৃষ্টি কমলে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন মোবাইল ফোনে বলেন, এ সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা পেয়েছি। আমরা দ্রুত কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।