রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

আজমিরীগঞ্জে ভূমিহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে সচ্ছলদেরও আবাস



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে দরিদ্র ভূমিহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের তালিকায় কিছু সচ্ছল পরিবারেরও নাম এসেছে। আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নে ৫৯টি পরিবারকে ঘর দেয়া হয়। তাদের মধ্যে ২৯ জনের নিজস্ব ঠিকানা রয়েছে। তাদের জমিজমা, বসতভিটা এবং ঘর আছে। অনেকেরই আবার আধাপাকা বাড়িও আছে।


ফলে বরাদ্দকৃত ঘরের একটি অংশ চলে যাচ্ছে জমি, বসত ভিটা, ঘর রয়েছে এমন পরিবারের দখলে। স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারের সহায়তায় তারা সরকারি বাড়ি পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে এক মেম্বার দোষােরোপ করেছেন চেয়ারম্যানকে। তবে এই অনিয়ম নিয়ে ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যান কেউই দায় নিতে চাননি। তারাও পরস্পরকে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করেছেন।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, ঘর থাকার পরও যারা ঘর পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদপুর গ্রামের রতন তালুকদার। তার ২৬ শতক জমির উপর একটি ঘর রয়েছে। ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছৌলরী গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আলী রহমান। তার পৈত্রিক বাড়িতে দ্বিতল টিনসেড ও পাকা দুটি ঘর রয়েছে। ওই ওয়ার্ডের বদরপুর গ্রামের মৃত আশুতোষ সূত্রধরের ছেলে হরিকান্ত সূত্রধরের পৈত্রিক বাড়িতে দ্বিতলা টিনসেডের একটি ঘর রয়েছে। তার ভাইয়ের দুই মেয়েদের দুটি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ওই তালিকায় আমির আলীর স্ত্রী চম্পা বেগম ও মোজাম্মিল মিয়া, রতন তালুকদার, অতশী তালুকদার রয়েছেন। তাদেরও বাড়ি-ঘর রয়েছে।

তবে ঘরবাড়ি না থাকার পরও ঘর পাননি এমন পরিবারও রয়েছে।

ভূমিহীন বিউটি বেগম ও জাকির হোসেন বলেন, আমাদের ঘর-জমি কিছুই নেই। বছরের পর বছর ধরে অন্যের বাড়িতে থাকি, কাজ করি। আমরা ভেবেছিলাম এবার আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে। চেয়ারম্যান আমাদের কাছ থেকে ছবি, কাগজ নিয়েছে কিন্তু ঘর পাইনি। যাদের বসতভিটা, জমিজমা আছে তারাও ঘর পেয়েছে।

ঘর থাকার পরেও ঘর পাওয়া মোজাম্মেল মিয়ার ছেলে মাছুম মিয়া বলেন, ‘আমাদের বাড়ি আছে, ঘর আছে ঠিকই কিন্তু চেয়ারম্যান-মেম্বার জানেন আমরা অনেক সমস্যায় আছি। এ জন্যই তারা আমাদের সরকারি ঘরটি দিয়েছেন। এটি আমার বাবার নামে পেয়েছি। আমাদের আগের বাড়িটি আমরা কিনেছি, কিন্তু আমাদের অনেক ঋণ আছে।’

এ বিষয়ে মোজাম্মেল মিয়া বলেন, ‘আমাদের বাড়ি আছে। কিন্তু চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সহায়তায় সরকারি একটি বাড়ি পেয়েছি।’

ঘর থাকার পরও আবেদন করা লাকিজ মিয়া ও বিউটি আক্তার বলেন, ‘আমরা আবেদন করেছি, কিন্তু এখনও পাইনি।’

ঘর থাকার পরও ঘর পাচ্ছেন রতন তালুকদার। তার ভাবী অতশী তালুকদার বলেন, ‘আমাদের বাড়িটি ২৬ শতাংশ। আমাদের দুটি পরিবার এখানে বসবাস করি। রতন সরকারি বাড়ি পেয়েছে, আমরা পাইনি। তবে আমরা আবেদন করেছি।’

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আজিজুর রহমান সওদাগর বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে অসংখ্য ভূমিহীন পরিবার থাকা স্বত্ত্বেও তাদের না দিয়ে স্বচ্ছল লোককে চেয়ারম্যান ঘর দিয়েছেন। তিনি নিজে জেনে শুনে দরিদ্রদের ঘর বরাদ্দে অনিয়ম করেছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মতিউর রহমান খান বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জেনেছি, কেউই বিত্তশালী নন। কারও খুব বেশি জমি নেই। অধিকাংশেরই জমি আছে ১ থেকে ৩ শতাংশ। ৫ শতাংশের উপরে আছে ৫ জন। তবে সবারই টিনের ঘর। আগামী সপ্তাহে টাস্কফোর্সের মিটিং আছে। সেখানে যারা অযোগ্য তাদের বাতিল করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তালিকাটা মূলত সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা দেন। তারাই তালিকা তৈরি করে সুপারিশসহ দিয়েছেন।’


এ বিষয়ে কাকাইলছেও ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘তারা (ইউএনও ও পিআইও) ঘর তৈরি করেছেন, উদ্বোধন করেছেন কিন্তু আমাদের জানাননি। আমরা জানিনা, শুধু স্বাক্ষর দিয়েছি। আমার মনে হয় না কোনো ভুল হয়েছে। হলে আল্লাহ মাফ করবেন। আর যদি কোনো ইউপি সদস্য টাকা নিয়েছেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায়, তাকে কোনো কাজ দেয়া হবে না।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ খান বলেন, ‘কাকাইলছেও ইউনিয়নে ৫৯টি ঘর তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে ১০টি ঘরের উদ্বোধন আমি নিজে করে এসেছি। ২ শতাংশ জমিসহ পাকা ঘর দেয়া হবে। কারো জমি আছে, ঘর আছে এমন ব্যক্তি ঘর পাবেন না। তবে ভুল করে যদি কারও নাম তালিকায় আসে, তা অবশ্যই বাতিল করা হবে এবং যথযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের নিজস্ব ঠিকানা দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় হবিগঞ্জে ঘর দেয়া হয় ৭৮৭টি পরিবারকে।