শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকেই গাঁজায় আসক্ত শায়েস্তাগঞ্জের আকাশের বদলে যাওয়া
বিশেষ প্রতিবেদক

বিশেষ প্রতিবেদক



বিজ্ঞাপন

১৪ বছরের কিশোর আকাশ (ছদ্মনাম)। পড়ালেখায় সে বেশ মনযোগী ছিল। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় সে সিগারেট খাওয়া শুরু করে। এরপর আস্তে আস্তে আসক্ত হয় গাঁজায়। সপ্তম শ্রেণিতে উঠে সে পুরোপুরি গাঁজায় আসক্ত হয়ে পড়ে। বাড়ি থেকে টাকা চুরি করে গাঁজা সেবন করতে শুরু করে। বর্তমানে মৌলভীবাজার শহরের ‘আদর’ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে তার চিকিৎসা চলছে।

আকাশের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ৭নং নুরপুর ইউনিয়নের সুরাবৈই গ্রামে। চার বোনের একমাত্র আদরের ভাই সে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার একটি হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় আকাশ। ক্লাসে তার রোল নাম্বার ছিল ২। কিন্তু ধীরে ধীরে সে এলাকার বখাটে ও স্কুল বাদ দেয়া অন্যান্য ছেলেদের পাল্লায় পড়ে পড়ালেখায় অমনযোগী হয়ে যায়। প্রথমে সিগারেট পরে গাঁজায় আসক্ত হয়ে পড়ে আকাশ।

আদর মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে কথা হয় কিশোর আকাশের সঙ্গে। সে বলে, আমি আর আগের জীবনে ফিরতে চাই না, গ্রামেও যেতে চাই না। কারণ আমার আজকের পরিণতির জন্য দায়ী আমার গ্রামের পরিবেশ ও আশপাশের সমবয়সী অন্যান্য ছেলেরা। যাদের সাথে ওঠাবসা করতে গিয়ে মাদকের পথে পা বাড়িয়েছি।

আকাশ বলে, আমি যখন ষষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলাম তখন ক্লাসে পড়ালেখায় অনেক মনযোগী ছিলাম। পরে সমবয়সী বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে তাদের সিগারেট টানা দেখে আমি নিজেও সিগারেটে টান দিয়ে প্রথম নেশাগ্রস্ত হই। এরপর গাঁজায় আসক্ত হয়ে পড়ি। আমার যখন মাদকের প্রয়োজন হত তখন আমার মায়ের ড্রয়ারে রাখা কিস্তির টাকা চুরি করে গাজা ক্রয় করে সেবন করতাম। আর এসব যখন সময় মতো পেতাম না তখন কখনো কখনো মা অথবা বাবাকে মারধর করে ঢিল মেরে দৌঁড় দিতাম। তখন আমাকে ধরে বাবা বেধরক পিটুনি দিত।

সে বলে, বাবা-মা এখন মাঝে মাঝে এখানে দেখতে আসে কান্নাকাটি করে। তবে আগের মত গালাগালি করে না। তারা বুঝেছে আমি এখন ভালো হয়ে যাচ্ছি। এখানে আসার পর নিয়মিত কাউন্সেলিং হওয়ার কারণে বুঝতে পারছি আমি আমার পরিবার ও নিজের জীবনের কত ক্ষতি করেছি। এখন আমার একটাই ভাবনা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা আমার গ্রামের পরিবেশ।

আদর মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের পরিচারক নিখিল তালুকদার বলেন, আকাশকে তার বাবা-মা ও ইউপি চেয়ারম্যান মাদকাসক্ত অবস্থায় আমাদের এখানে ভর্তি করান। এখন উন্নত কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে সে অনেকটাই সুস্থ ও স্বাভাবিক।