শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



থেরেসা মে হত্যা ষড়যন্ত্র : বাংলাদেশির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
খবর: বিবিসি

খবর: বিবিসি



বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে আত্মঘাতী হামলায় হত্যার পরিকল্পনা করার দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, উত্তর লন্ডনের নাইমুর জাকারিয়া রহমান (২১) গত মাসে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।

বিভিন্ন পত্রিকার খবরে বলা হয়, রহমান নিজেকে বাংলাদেশি-ব্রিটিশ নাগরিক বলে বর্ণনা করেছেন।

যাবজ্জীবন সাজা হওয়ায় তাকে ন্যুনতম ৩০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।

রহমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অফিসের প্রবেশ পথগুলোতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর পর থেরেসা মে’কে ছুরি দিয়ে অথবা গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করে।

রায়ে বিচারক হ্যাডন-কেভ বলেন, গ্রেফতার না হলে রহমান ‘তার হামলা চালাতেন’।

মেট্রোপলিটন পুলিশ, এমআই-৫ এবং এফবিআই যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে রহমানকে গ্রেফতার করে।

ছদ্মবেশী একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের কাছ থেকে একটি ব্যাগ ও জ্যাকেট সংগ্রহের পর পরই রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মনে করেছিলেন সেগুলোতে বিস্ফোরক ভরা রয়েছে।

রায়ে বলা হয়, ‘আমি নিশ্চিত বাস্তবে সবসময়ই রহমান বিশ্বাস করেছেন ওইসব বিস্ফোরক যন্ত্র আসল এবং মারাত্মক ক্ষতি করতে সক্ষম।’

বিচারক আরও বলেন, ছদ্মবেশী পুলিশ সবসময়ই ‘বিবেচকের’ মতো কাজ করেছেন এবং রহমান নিজেই তার কাজের ‘উৎসাহী পরিকল্পনাকারী’ ছিলেন।

বিবিসি জানায়, রহমান আইএসের নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ করেন, কিন্তু তিনি জানতেন না তিনি আসলে একজন এফবিআই এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

ওই এজেন্ট রহমানকে এমআই-৫ এর একটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ছদ্মবেশী ওই দলটি তাকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয় তারা আইএস-এর সদস্য।

ছদ্মবেশী এমআই-৫ সদস্যদের রহমান বলেন, ‘পার্লামেন্টে একটা আত্মঘাতী হামলা করতে চাই। আমি থেরেসা মে’কে হত্যা করতে চাই। এখন আমার শুধু কিছুদিন একটা স্লিপার সেলে আত্মগোপন করে থাকা দরকার।’

বিচারক জানান, রহমান বিশ্বাস করেন যে তাকে দেয়া বিস্ফোরক দিয়ে ম্যানচেস্টার অ্যারেনার অনুরুপ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো যাবে। সেখানে বোমা হামলায় ২২ জন মানুষ নিহত হয়েছিল।

রহমানের আইনজীবী বলেন, তার চাচা তার মগজধোলাই করেছিল। রহমানের চাচা পরে সিরিয়ায় আইএস-এর হয়ে লড়াই করার সময় এক ড্রোন হামলায় নিহত হন।

রায়ের আগের এক প্রতিবেদনে রহমানকে ‘চালাক ও ধূর্ত’ তরুণ, যে ‘পুলিশের নজর এড়িয়ে ভয়ংকর ক্ষতি করতে সক্ষম’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

রহমানকে বিচারক হ্যাডন-কেভ বলেন, জেলে তিনি কোরান পড়ার প্রচুর সময় পাবেন এবং ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম।

বিচারক আরও বলেন বার্মিংহ্যামের বাসিন্দা রহমান একজন ‘অত্যন্ত বিপদজনক ব্যক্তি’ এবং সে কখনো জঙ্গিবাদ পরিত্যাগ করবে কিনা তা আগে থেকে বুঝা সম্ভব নয়।