শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



ইয়েমেনি শিশুদের করুণ অবস্থা
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

ইয়েমেনের একটি হাসপাতাল। সেখানে অত্যাচারিত শিশুদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। অনাহারে থাকা এসব শিশুর মুখের চামড়া লেগে আছে হাড়ের সঙ্গে। সেখানে এসেছে প্রায় তিন মাস বয়সী একটি শিশু মোহাম্মদ। কিন্তু তাকে দেখতে মনে হয় একটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক নবজাতকের মতো। ক্ষুধার কারণে তার ক্ষুদ্র শরীরটা আরো ছোট হয়ে এসেছে।
মাথাটির আকৃতি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র হয়েছে। সব কিছু যেন চরম এক অনাহারে থাকার কাহিনী বলে দিচ্ছে। ইয়েমেনের দক্ষিণে মুকাল্লার একটি হাসপাতালে পৌঁছেছে মোহাম্মদ। তার আগে তাকে নিয়ে তাদের হাজার গ্রাম থেকে উত্তপ্ত গ্রীষ্মে ভয়াবহ এক সফর করে তার মা পৌঁছেছেন ওই হাসপাতালে। মোহাম্মদের মায়ের সঙ্গে এসেছেন আরো ৫ নারী। তাদের সঙ্গেও যেসব শিশু রয়েছে তারাও হাড্ডিসার। চিকিৎসা পাওয়ার আশায় বসে ছিলেন হাসপাতালে।

ইয়েমেনে যুদ্ধের কারণে জীবন নিয়ে লড়াই করছে অসংখ্য শিশু। তার মধ্যে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, যারা ভয়াবহভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে তাদের সংখ্যা ৫ লাখ। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্যমনে আরো ১৮ লাখ শিশু আছে, যারা অনাহারে ভুগছে। ফলে ইয়েমেনে প্রতিদিনই বাড়ছে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা। হানান নামে তিন সন্তানের মা বলেন, আমার স্বামীর কোনো কাজ নেই। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে তিনি দিনের পর দিন ছুটে বেড়ান কাজের সন্ধানে। নিয়মিত কাজ পান না। ওই হাসপাতালের পরিচালক আভা আবদাল্লাহ বলেন, উপসাগরীয় সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী ২০১৬ সালে মুকাল্লা থেকে আল কায়েদাকে উৎখাত করার পর ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ওই এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা একেবারেই খারাপ। ফলে নির্ধারিতভাবেই অনাহারে থাকতে হচ্ছে মানুষকে। এখানে নারী ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালটিই প্রধান অবলম্বন। এখানে রয়েছে মাত্র ৬টি বেড। ফলে প্রতিদিন রোগীতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে ওই হাসপাতাল। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইয়েমেন হলো সবচেয়ে দরিদ্র দেশ। ২০১৫ সাল থেকে সেখানে বিধ্বংসী এক গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই সময় সৌদি আরব ও তার মিত্ররা বোমা হামলা শুরু করে।