লাতু ডেস্ক, ২৬ আগস্ট ২০২৬:: জনবল সংকটের কারণে সিলেট আখাউড়া রেলপথের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত সাতটি রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় পাঁচটি হবিগঞ্জে একটি এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে একটি স্টেশন রয়েছে। এক যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো এখন জনমানবশূন্য।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় স্টেশন গুলোর কোটি কোটি টাকার মূল্যবান জায়গা দখল হচ্ছে। এছাড়াও বন্ধ স্টেশন গুলোর এলাকার বাসিন্দাদের দূরের স্টেশনে গিয়ে রেলসেবা নিতে হচ্ছে। এতে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এসব স্টেশন এলাকার বাসিন্দারা জানান, একটা সময় ট্রেন থামতো। স্টেশন গুলো ছিলো এসব এলাকার প্রাণকেন্দ্র। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে একেক করে অনেক স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জনবল সংকটে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বিভিন্নভাবে রেলের মূল্যবান জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। এসব স্টেশন চালু করে দিলে সাধারণ মানুষের উপকার হতো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শমশেরনগর-কুলাউড়ার মধ্যবর্তী স্থানে মনু, টিলাগাঁও, ভাটেরা, লংলা ও ছকাপন রেলস্টেশন বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও হবিগঞ্জের লস্করপুর ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ রেল স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট-আখাউড়া রেলওয়ে সেকশনের লংলা, ভাটেরা, টিলাগাঁও, ছকাপন ও মনু স্টেশনগুলো জনমানবহীন নীরব ভূতের বাড়ির মতো দাঁড়িয়ে আছে। ঝোপজঙ্গলে ভরে গেছে স্থানগুলো। ব্রিটিশ আমলের তৈরি স্থাপনাগুলো এখনো দাঁড়িয়ে আছে। কোনো কোনো স্টেশনে একাধিক লাইন থাকলেও ট্রেন থামে না। নেই সিগন্যাল বাতি, আবার কোনো কোনো স্টেশনে একটিমাত্র লাইন রয়েছে। দীর্ঘদিন স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় অনেকে রেলের ভূমি দখল করে নিয়েছেন। এসব স্টেশনে সরাসরি (ওয়ানওয়ে) লাইন করে দেওয়া হয়েছে এখন।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বৃটিশরা প্রয়োজনে এসব স্টেশন স্থাপন করে চালু রাখলেও আমরা তা সচল রাখতে পারিনি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তবে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো এখন জনমানবশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে বলছে, জনবল সংকট থাকায় এসব স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে অবকাঠামো ঠিক করে ফের কিছু স্টেশন চালু করার ভাবনা রয়েছে।
ফেঞ্চুগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা আলী আহমেদ বলেন, আমাদের স্টেশন চালু না থাকায় বাসে করে দূরবর্তী গন্তব্যে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে ট্রেনের জন্য সিলেটে যেতে হয়। স্টেশন চালু হলে পুরো এলাকায় প্রাণ ফিরে আসবে। এই অঞ্চলের যাত্রীদের কষ্ট লাঘব হবে।
টিলাগাঁও স্টেশন এলাকার বাসিন্দা সোলেমান আহমেদ বলেন, এই স্টেশন আগে চালু ছিল। এখানে নিয়মিত ট্রেন থামত। মেইল ট্রেন চালু থাকা অবস্থায় এখানে থামতে। তবে এই ট্রেন ইঞ্জিন সংকটে বন্ধ হওয়ার পর আর কোনো ট্রেন থামেনি। জনবল সংকট দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মনু স্টেশন এলাকার বাসিন্দা মাকিন আহমেদ বলেন, এখানে অনেক দিন ধরে কোনো ট্রেন থামে না। নামেই শুধু স্টেশন। একটি মাত্র লাইন আছে। আর সিগন্যাল বাতি বা অন্য কোনো কিছুই নেই। ট্রেন না থামায় অনেকেই জায়গা দখল করে নিয়েছেন। এসব জায়গা উচ্ছেদ অভিযানে কেউ আসে না।
কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার রুমান আহমেদ ও শমশেরনগর স্টেশনমাস্টার রজত কুমার রায় বলেন, আখাউড়া সিলেট রেলপথে বেশকিছু বন্ধ রেলস্টেশন রয়েছে। এগুলো বি ক্যাটাগরিতে আছে। কবে চালু করা হবে তা জানা নেই। তবে শুনেছি মাস্টার সংকট ও অবকাঠামো কারণে স্টেশনগুলো বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া কিছু স্টেশনে সিগন্যাল বাতি ও লাইনে সমস্যা রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণে সিলেট আখাউড়া রেলপথের বেশকিছু রেল স্টেশন বন্ধ রয়েছে। জনবল নিয়োগ হলে পর্যায়ক্রমে বন্ধ স্টেশন গুলো চালু করা হবে।




