বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ



Sex Cams

                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

বড়লেখার ছয় বছরেও চালু হয়নি বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মাঠে চরে গরু-ছাগল



বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: ২০২০ সালের নভেম্বরে উদ্বোধন করা হয়েছিল মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। উদ্দেশ্য ছিল ইউনিয়নের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু উদ্বোধনের ৫ বছর ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রটি এখনো কার্যকরভাবে চালু হয়নি। জনবল সংকটে বন্ধ রয়েছে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা। উদ্বোধনের পর হাতেগোনা কয়েক দিন ভবনটি খোলা হলেও অধিকাংশ সময়ই পড়ে থাকে তালাবদ্ধ।

শুধু সেবাই নয়, দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অযত্ন-অবহেলায় কেন্দ্রটির ভবন ও আশপাশের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে গরু-ছাগল। ভবনের সামনে ও প্রবেশপথে জন্মেছে ঘাস-আগাছা। বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। বিবর্ণ হয়ে গেছে ভবনের দেয়ালের রংও।

বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে মোট চারটি পদের মধ্যে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও আয়া-দুটি পদের জনবল অনুমোদিত হয়েছে। অপর দুটি পদ-উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও এমএলএসএস-এখনো অনুমোদন করা হয়নি।

সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নজরুল ইসলামকে বর্ণি ও নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর সপ্তাহে দুই দিন বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের কথা।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নজরুল ইসলাম সপ্তাহে এক দিন কেন্দ্রে আসেন। কিছু সময় অবস্থান করে চলে যান। কোনো কোনো সপ্তাহে তিনি আসেন না বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রধান ফটক খোলা থাকলেও ভবনের মূল দরজায় ঝুলছে তালা। ভবনের সামনে ও প্রবেশপথের আশপাশে জন্মেছে ঘাস-আগাছা। বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। কেন্দ্রের নির্ধারিত সীমানার ভেতরে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে গরু-ছাগল। মাঠে ঘাস খাচ্ছে এসব গবাদিপশু। দীর্ঘদিনের অযত্নে ভবনের দেয়ালের রং বিবর্ণ হয়ে গেছে। পুরো কেন্দ্রের পরিবেশ দেখে মনে হয়েছে, এটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জবলু বলেন, ‘সপ্তাহে এক দিন একজন আসেন। খুলেন, মানুষ আসলে বলেন ওষুধ নেই। এরপর আধা ঘণ্টা-৪০ মিনিট বসে চলে যান। আর কোনো খবর মেলে না। কোনো সপ্তাহে আসেন, কোনো সপ্তাহে আসেন না।’

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশপাশে ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জবলু বলেন, ‘ভবনটি উদ্বোধনের সময় আমরা খুশি হয়েছিলাম। প্রতিদিন ডাক্তার থাকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ছয় বছর হলো, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কোনো কাজে আসছে না। আমাদের বর্ণিতে অনেক নেতা, কিন্তু কাজের কোনো নেতা নেই।’

কেন্দ্রটি কার্যকরভাবে চালু না থাকায় পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি, প্রসবপূর্ব সেবা, প্রসবকালীন সেবা, নবজাতকের পরিচর্যা, শিশুস্বাস্থ্য সেবা, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা, সীমিত স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং সাধারণ রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের মানুষ। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নির্মিত সরকারি একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এভাবে দীর্ঘদিন অচল পড়ে থাকায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা বলেন, ‘বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি নতুন। এখানে পদ সৃষ্টি হয়নি। ফলে মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি। জনবল পাওয়া গেলে যথাযথভাবে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’