সোমবার, ২৩ মে ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



জুড়ীতে ‘রাজলক্ষ্মীকে’ নিয়ে গ্রামে চাঁদাবাজি, আতঙ্কে ছোটাছুটি



বিজ্ঞাপন

লাতু ডেস্ক:: ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম। সবাই যাঁর যাঁর কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ বাড়ির উঠান বা ঘরের দরজার সামনে হাতি দেখে আতঙ্কিত লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। উৎসুক জনতার অনেকে আবার হাতি দেখতে ভিড় জমান। ‘রাজলক্ষ্মী’ নামে বড় একটি পোষা হাতি নিয়ে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করেন ‘মাহুতেরা’ (হাতি দেখভাল করা ব্যক্তি)। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা গিয়ে হাতি দেখভালের দায়িত্বে থাকা মাহুতকে জরিমানা করেন। আজ বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম বেলাগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দুপুরে সরেজমিনে পশ্চিম বেলাগাঁও গ্রামে দেখা গেছে, হাতি নিয়ে দুই ব্যক্তি প্রত্যেকের বাড়িতে যাচ্ছেন। দরজার সামনে গিয়ে মাহুতের নির্দেশে শুঁড় তুলে লোকজনকে সালাম দিচ্ছে হাতি। লোকজন ২০, ৫০, ১০০ টাকা করে চাঁদা দিচ্ছেন। একজন মাহুত সেই টাকা প্যান্টের পকেটে রাখছেন। কিছু কিছু বাড়িতে হাতির ভয়ে নারী ও শিশুকে নিরাপদ স্থানে ছুটতে দেখা যায়। হাতিটি দেখতে পেছনে ছুটছিলেন বিভিন্ন বয়সী লোকজন। কেউ কেউ মুঠোফোনে হাতির গতিবিধির ভিডিও ধারণ করছিলেন। কেউ ছবি তুলছিলেন। পশ্চিম বেলাগাঁও সড়ক দিয়ে হাকালুকি হাওর থেকে কাটা পাকা বোরো ধান বোঝাই করে ফিরছিল কয়েকটি পিকআপ ভ্যান। হাতিকে দিয়ে এসব গাড়ির চালকদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করেন মাহুত।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, তাঁর বাড়ির শিশু ও নারীরা হাতি দেখে ভয় পেয়ে যান। তিনি বাইরে ছিলেন। খবর পেয়েই বাড়ি ছুটে যান। ফারুক বলেন, হাতি বনে থাকার কথা। অথচ এটি গ্রামে নিয়ে এসে চাঁদাবাজি করানো হচ্ছে। নিরীহ বন্য প্রাণীটিকে অসৎ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এলাকার চার-পাঁচজন কিশোর জানায়, মাহুত গরিব লোকজনের কাছ থেকে কম আর ধনী পরিবারের কাছ থেকে বেশি টাকা চাঁদা নিচ্ছিলেন

শরীফ আহমেদ নামের ‘মাহুত’ বলেন, হাতিটি পোষা। এটির নাম রাজলক্ষ্মী। পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া উপজেলার কমৃধা ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল লতিফ এটির মালিক। হাতিটি কুলাউড়ার সংরক্ষিত বনে থাকে। তিনি এটিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন। চা-নাশতার জন্য কিছু টাকা নিচ্ছেন। লোকজন ভয় পাচ্ছেন না বলে তিনি দাবি করেন। হাতির মালিক বিষয়টি জানেন কি না, জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

মাহুত শরীফের সঙ্গে রুবেল নামের তাঁর এক সহযোগী ছিলেন। তাঁর কাছে চাঁদার টাকা ছিল। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সটকে পড়েন।

গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বেলা দুইটার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার অধিকারী জুড়ী থানার একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারা অনুযায়ী গণ–উপদ্রব সৃষ্টির অভিযোগে মাহুত শরীফকে ২০০ টাকা জরিমানা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে মাহুত হাতি নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, আইন অনুযায়ী পোষা হাতি লালন–পালনের ক্ষেত্রে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। রাজলক্ষ্মীর মালিক আবদুল লতিফের কোনো অনুমতিপত্র নেই। এ ছাড়া পোষা বন্য প্রাণীটি ব্যবহার করে লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ। তদন্ত করে এ বিষয়ে হাতির মালিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও হাতির মালিক আবদুল লতিফের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।