রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

ভারতীয় কমলায় হতাশ জুড়ীর চাষিরা
সরেজমিন রিপোর্ট (৩য় পর্ব)

সরেজমিন রিপোর্ট (৩য় পর্ব)



বিজ্ঞাপন

সাইফুল্লাহ হাসান :: মৌলভীবাজারের প্রত্যেকটি উপজেলায় কমলার চাষ হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি জুড়ী উপজেলায়। এখানকার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের রূপাছড়া, লালছড়া, হায়াছড়া, শুকনাছড়া, কচুরগুলসহ পাহাড়ি এলাকায় চাষ হয় কমলা। দেশজুড়ে এই এলাকার কমলার বেশ সুনামও রয়েছে। তবে দেশীয় বাজারে ভারতীয় কমলা ঢুকে পড়ায় হতাশ চাষিরা।


মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১৪২ হেক্টর জমিতে ১৯৩ টি কমলাবাগান আছে। সবচেয়ে বেশি ৯১ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ হয় জুড়ী উপজেলায়। বড়লেখায় ২৫ হেক্টর, কুলাউড়ায় ১৭ হেক্টর, সদরে ১ দশমিক ৫, শ্রীমঙ্গলে ৬, কমলগঞ্জে ১ ও রাজনগরে ০ দশমিক ৫০ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ হয়।

 

সম্প্রতি জুড়ী উপজেলার কয়েকটি কমলাবাগান ঘুরে দেখা যায়, বিক্রির জন্য বাগান থেকে পাকা কমলা সংগ্রহ করছেন চাষিরা। পরে বাড়ির উঠোনে এনে আকার অনুসারে বাছাই করছেন। এসব কমলা ঢাকা, ভৈরব, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর জন্য পাকা, আধা পাকা, ছোট ও বড়গুলো আলাদা আলাদা করে বাঁশের তৈরি খাঁচায় গুছিয়ে রাখছেন।

এ সময় চাষিরা জানান, দেশি কমলা বাজারজাত করার আগেই ভারতীয় কমলা বাজারে চলে আসে। এতে তারা সঠিক দামে কমলা বিক্রি করতে পারেন না।

আরও পড়ুন :


জুড়ীর কমলা বাগানে অজানা রোগের হানা

জুড়ীর কমলা বাগানে পানির হাহাকার!

কথা হয় উপজেলার লালছড়া এলাকার কমলা বাগানের মালিক জয়নুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, এ বছর কমলার ফলন ভালো হয়নি। এরমধ্যে ভারতীয় কমলার কারনে আমরা সঠিক দাম পাই না। যদি কমলা আমদানি বন্ধ করা যেত তাহলে আমরা লাভবান হতাম।

ভারতীয় কমলা মিষ্টি হওয়ায় চলে ভালো। কিন্তু সিলেটী কমলা একটু টক হওয়ায় অনেকে নিতে চায় না।

 

স্থানীয় আরেক কমলা চাষি জাছির আহমদ বলেন, ভারতীয় কমলা আমদানি বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের এই কমলা দিয়েই দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব।


চাষিরা জানান, জুড়ীতে মূলত দুই ধরনের কমলার চাষ হয়- নাগপুরী ও খাসি। এখানে খাসি কমলার চাষ বেশি হয়। নাগপুরী কমলাগুলো আকারে বড়, খাসি তুলনামূলক ছোট।

চাষি মোরশেদ মিয়া বলেন, আমাদের কমলা গুলো মিষ্টি হতে একটু লেট হয়। বাজারে তুলতে একটু সময় লাগে। এর আগে ভারতের কমলা এসে আমাদের বাজারে চলে আসে, সে জন্য আমাদের কমলার দাম পাইনা। যে কারনে সবাই বলে আমাদের কমলার মিষ্টি কম। আমাদের কমলা কিছুটা টক ঠিক আছে। কারণ অমরা কমলাটা মিষ্টি হওয়ার জন্য কোনো ধরনের ঔষধ স্প্রে করি না। সে জন্য কিছুটা টক থাকে।

পরিবেশ কর্মী খোরশেদ আলম বলেন, আমাদের এলাকার বাগানের গাছগুলোতে যা ফল ধরে, তার শতভাগ ফলই নিরাপদ। কারণ, চাষিরা এতে কোনো ধরনের মেডিসিন বা ফরমালিন দেয় না। সে কারণে এগুলো একটু টক। কিন্তু এই টক কমলাগুলোই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আর বিশেষ করে ভারতীয় কমলা বাজারে আগে আসায় স্থানীয় কমলাগুলো কম দামে বিক্রি করতে হয়। সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ যাতে ভারতীয় কমলা আগে না অসে সে জন্য যতাযত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, যখন কমলা সংগ্রহ শুরু হয়, এর আগেই ভারতীয় কমলা বাজারে চলে আসে। ওদের কমলাটা আরেকটু আগাম। সে জন্য চাষিরা কাচা থাকতে একটু আগেভাগে বিক্রি করে দেয় মূল্যটা পাওয়ার জন্য। সে জন্য অনেকের কাছে কমলাগুলো টক মনে হয়।


তিনি বলেন, যেহেতু বাইরে থেকে কমলাটা চলে আসে সেজন্য স্থানীয় চাষিদের কিছুটা সমস্যা হয়। তবে যারা দূরে নিয়ে বিক্রি করে তারা ভালো দাম পেয়ে থাকেন।