বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



জুড়ীর কমলা বাগানে পানির হাহাকার!
সরেজমিন রিপোর্ট (২য় পর্ব)

সরেজমিন রিপোর্ট (২য় পর্ব)



বিজ্ঞাপন

সাইফুল্লাহ হাসান :: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় মৌসুমের শুরুতে পানির অভাবে ভোগেন কমলা চাষিরা। এ বছর নির্দিষ্ট সময়ে বৃষ্টি না হওয়াতে কমলার ফলন ভালো হয়নি। ফলে বিপাকে পড়েছেন তারা।

উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের রূপাছড়া, লালছড়া, হায়াছড়া, শুকনাছড়া, কচুরগুল এলাকা কমলার জন্য বিখ্যাত।


মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১৪২ হেক্টর জমিতে ১৯৩ টি কমলা বাগান আছে। সবচেয়ে বেশি ৯১ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ হয় জুড়ী উপজেলায়। বড়লেখায় ২৫ হেক্টর, কুলাউড়ায় ১৭ হেক্টর, সদরে ১ দশমিক ৫, শ্রীমঙ্গলে ৬, কমলগঞ্জে ১ ও রাজনগরে ০ দশমিক ৫০ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ হয়।

এলাকার মানুষ ও কমলা চাষিরা বলছেন দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চল হওয়ায় ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা ও, উন্নত প্রযুক্তি নেই। বিভিন্ন প্রতিকুলতার সাথে যুদ্ধ করে কমলাচাষিরা কোন মতে টিকে আছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে জুড়ী উপজেলা তথা বৃহত্তর সিলেটে উৎপাদিত কমলা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিন এই সব এলাকা ঘুরে চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় দীর্ঘদিন থেকে কমলাচাষিরা পিছিয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে সেচ ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এ শিল্প থেকে।

আরও পড়ুন : জুড়ীর কমলা বাগানে অজানা রোগের হানা


এ বছর চাষি মোরাশেদ মিয়ার বাগানে অন্যান্যদের তুলনায় অনেক ভালো ফলন হয়েছে। তবু উদ্বিগ্ন তিনি। তার বাগানেও গত তিন বছর থেকে ৪ শত গাছ মারা গেছে।

তিনি বলেন, যখন গাছে কমলার মুকুল আসে, ফুল দেয় বা মটর দানার মতো হয় তখন সেচের খুব প্রয়োজন হয়। ঐ সময় আমরা সেচ দিতে পারি না, সেজন্য কমলার আকার ছোট হয়। আবার ছোট ছোট কমলাগুলো ঝরে পড়ে। আমরা বাগানে নিয়মিত ২ জন শ্রমিক কাজ করেন। আবার কমলার সিজনে ৭/৮ জন শ্রমিক মিলে বাগানে গাছ গুলোর পরিচর্যা করেন। সরকারের কাছে অনুরোধ আমাদের যদি পানির সুবিদা করে দেয়া হয় তাহলে আমরা আরও বেশি বেশি চাষ করতে পারতাম।

বিশেষ করে এক ধরনের পোকার জন্য কমলা ঝরে পড়ে। এবছর প্রচুর কমলা নস্ট হয়েছে এরকম। একদিনে ঝরে পড়েছে সাড়ে ৩ শত কমলা। এরকম প্রতিদিনই পড়ছে বললেন মোরাশেদ মিয়া।


পরিবেশ কর্মী খোরশেদ আলম বলেন, আসলে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে কমলা ফলটা খুব আকর্ষণীয়। কিন্তু এটি চাষের জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয় কমলা চাষিদের। পরিশেষে দেখা যায় কমলা চাষে শুধুই লস! অনেক কৃষক আছে শুধু কমলার দিকে থাকিয়ে আছে তার পরিবার। বছর শেষে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ঐ কৃষক পরিবারের অভাব কোন ভাবে দূর হয় না। কারণ হচ্ছে সঠিক যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকা। বিভিন্ন রোগের আক্রমনের ফলে গাছ মরে যাওয়া। ইদানিং বিশেষ করে সেচের অভাবে ভালো ফল আসে না।

আরেক চাষি জয়নুল ইসলাম বলেন, গত বছর যেরকম ফল আসছিলো এইবার এইবার তা নেই। যখন ফুল আসে তখন মেঘ নেই, পরে খরায় আরোও জ্বালিয়ে দিছে বাগান। তারপরও যদি সেচের ব্যবস্থা থাকতো, সঠিক সময়ে পানি দেয়া যেতো, তাহলে মুটামুটি ভালো ফলন হতো। শুধু আমি নয়, অত্র এলাকার সকল কৃষকই এইবার হতাশ।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন, গ্রীস্ম মৌসুমে একটু সেচের সমস্যা হয়, যদি বৃষ্টি কম হয়। কিভাবে সেচ দিতে হবে সেটা আমরা তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। যারা সেটা অনুসরণ করছেন তারা গাছগুলো রক্ষা করতে পারছেন। তারপরও কিভাবে সেচ সুবিধা দেয়া যায় সেটাও আমাদের প্রকল্প থেকে চিন্তা ভাবনা চলছে। ভবিষ্যতে হয়তো সেচ যন্ত্রের সরবরাহ করা যেতে পারে।