মৌলভীবাজারের রাজনগরে ড্রাইভিং শিখতে গিয়ে সরকারী এম্বুলেন্স দিয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। শখের বসে ড্রাইভিং শিখতে গিয়ে সরকারী এম্বুলেন্স গাছের সঙ্গে ধাক্কা দেন স্টোরকিপার অচিন্ত কুমার দাস। এতে ওই এম্বুলেন্সটির ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
এ অবস্থায় এম্বুলেন্সটি রাতেই ট্রাকে তুলে সরিয়ে নেয়া হয় অন্যত্র। বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এনিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত কোন সময় না থাকায় অনেকেই মনে করছেন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কাগুজে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সচল দুটি এম্বুলেন্স রয়েছে। একটি হাইয়েস এম্বুলেন্স ও অপরটি ২২শ সিসির পাজারো এ্যাম্বুলেন্স। এটি চালাচ্ছেন আউট সোর্সিংয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত ড্রাইভার সুমন। তাকে কয়েকদিন থেকে ড্রাইভিং শিখতে অনুরোধ করছিলেন স্টোরকিপার অচিন্ত কুমার দাস। গত ১০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে ড্রাইভিং শিখতে এম্বুলেন্সটির ড্রাইভিং সিটে বসেন তিনি। এ সময় তিনি হাসপাতাল কম্পাউন্ডের ভেতরে গাছের সাথে ধাক্কা লাগান।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকের অগোচরে ট্রাক দিয়ে এম্বুলেন্সটি নিয়ে যাওয়া হয় গ্যারেজে। বিষয়টি জানার পর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোব্ধ হয়ে উঠেন। মুচড়ে যাওয়া এম্বুলেন্সের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করার পর তা ভাইরাল হয়।
এদিকে এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করেছে। তদন্ত কাজ শেষ করতে এবং প্রতিবেদন দাখিলের কোন নির্ধারিত কোন সময় দেয়া হয়নি এ কমিটিকে। এছাড়াও একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চালক সমুন ও স্টোরকিপার অচিন্ত কুমার দাসের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে অনেকেই মনে করছেন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে লোক দেখানো তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার বর্ণালী দাস বলেন, ঘটনার সাথে সাথে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন অন্যান্য সিদ্ধান্ত নিবেন।





