রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

আ’লীগ প্রার্থীর মনোনয়নে দুই ওসির হাত, চলছে তোলপাড়
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধার-৫ ও ৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় দুই ওসির ফটোসেশনে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একেবারে দলীয় কর্মীর ভূমিকায় গিয়ে তারা প্রার্থীর সঙ্গে ছবি তোলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ছবি ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক তোলপাড়। দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- সাঘাটা থানা পুলিশের ওসি মোস্তাফিজার রহমান ও পলাশবাড়ী থানা পুলিশের ওসি হিপজুর আলম মুন্সী।

পাশাপাশি সাঘাটা থানা পুলিশের ওসি মোস্তাফিজারের সঙ্গে বোনারপাড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমানও ফটোসেশনে অংশ নেন।

বুধবার দুপুরে সাঘাটা উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল কুমার ঘোষের কাছে গাইবান্ধা-৫ আসনের (ফুলছড়ি-সাঘাটা) এমপি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময়ে ফটোসেশনে অংশ নেন সাঘাটা থানা পুলিশের ওসি মোস্তাফিজার রহমান ও বোনারপাড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান।

পাশাপাশি পলাশবাড়ী উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল হোসেনের কাছে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের ক্ষমতাসীন দলের এমপি ডা. মো. ইউনুস আলী সরকার মনোনয়নপত্র জমার সময় ফটোসেশনে অংশ নেন পলাশবাড়ী থানা পুলিশের ওসির হিপজুর আলম মুন্সী।

এ বিষয়ে ওসি হিপজুর আলম বলেন, আমরা ওখানে ছিলাম। তখন আমাদের অনুরোধ করা হয়েছে ছবি তোলার জন্য। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তোলা হয়নি। নির্বাচনী নীতিমালার কোনো লঙ্ঘন নয়। তবে এটি নিয়ে কেউ বিতর্ক করতে চাইলে করতে পারেন। দায়িত্ব পালনের সময় নেতাকর্মীদের বারবার ডাকে মনোনয়নপত্রে হাত দিয়েছি। তবে এমন ছবি সারা দেশে অনেক হয়।

এ বিষয়ে সাঘাটা থানা পুলিশের ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেছি। আমরা ইউএনওর সঙ্গে ছিলাম। তাকে সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেয়া আমাদের দায়িত্ব। প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেছেন। আমরা সঙ্গে ছিলাম। এখানে অন্য কিছু হয়নি।

মনোনয়ন জমার সময় দলের প্রার্থীদের সঙ্গে ফটোসেশনের বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, বিষয়টি আমার নজরে পড়েছে। নিরাপত্তার কারণে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারেন, কিন্তু হাত বাড়িয়ে দেয়া ঠিক হয়নি। এ নিয়ে তাদের সতর্ক করাসহ জবাব দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।