বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



বউয়ের জন্য ‘মোহিনীতাজ’ বানালেন ডাক্তার
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

ভারত বর্ষের মুঘল সম্রাট শাহজাহান স্ত্রী মমতাজের জন্য ভালবাসার নিদর্শন হিসাবে যেমন তৈরি করেছিলেন বিখ্যাত আগ্রার তাজমহল। তেমনি একজন চিকিৎসক স্ত্রী’র প্রতি ভালবাসার নিদর্শন হিসাবে তৈরি করেছেন ‘মোহিনীতাজ’। ঠাকুরগাঁও জেলার আখানগড় ইউনিয়নের চতুরাখোর গ্রামের মাধবীকুঞ্জে দৃষ্টিনন্দন এই মোহনী তাজ ভবণ নির্মাণ করেন চিকিৎসক ফিরোজ জামান জুয়েল।

মোহনী তাজের ইঞ্জিনিয়ার ও ডিজাইনার তিনি নিজেই। নিজের স্বপ্ন পরিবারের প্রতি দায়িত্ব, নারী জাতির প্রতি শ্রদ্ধা ও স্ত্রী’র প্রতি অফুরন্ত ভালবাসাকে উৎসাহ ও সাহস হিসেবে নিয়েই মোহনী তাজ নির্মাণ করেন তিনি। তাই ডাক্তার ফিরোজ জামান জুয়েল তার তৈরি করা মোহনী তাজকে নিয়ে ছন্দে ছন্দে লিখেছেন- ‘গগন বিদারী ভূবন রাজ, মাধবী কুঞ্জে মোহনীতাজ। শিল্প শৈলী কারুকাজ, দিগ্বিজয়ী মোহনীতাজ।

চিকিৎসক ফিরোজ জামান জুয়েল শুধু একজন চিকিৎসকই নন তিনি কবি, ইঞ্জিনিয়ার, ডিজাইনারও বটে। ইতোমধ্যে তিনি রচনা করেছেন ‘স্বপ্নের প্রাবন্ধিক কাব্য’ ও চিঠিহীন খাম নামের দুটি কবিতা বই। গত বছরের ২৬ই নভেম্বর, মোহনী তাজ দেখার জন্য সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। মোহনী তাজ দেখার জন্য প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় করেন।

মোহনীতাজের মালিক একজন চিকিৎসক তার স্ত্রী জেসমিন রহিমও চিকিৎসক। মোহনী তাজ নির্মাণের কারণ জানতে চাইলে চিকিৎসক জুয়েল বলেন, আমার বিয়ের ১২ বছর চলে গেলেও আমি বাবা হতে না পাড়ায় এবং আর কোনদিন বাবা হতে পারবো কি না এ নিয়ে মানুষের মুখে চলছিল গুঞ্জন। একদিন ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে জরুরী বিভাগে নাইট ডিউটি করার সময় অল্প ঘুমের মাঝে একটি সুন্দর স্বপ্ন দেখলাম ৩ মাস পর জানতে পারলাম আমি বাবা হচ্ছি। তখন সেই দিন স্বপ্নে একটি ঘর দেখেছিলাম স্বপ্নে দেখা ঘরটি হচ্ছে এই মোহনী তাজ।

মোহনীতাজ তৈরিতে আমার স্ত্রী জেসমিন রহিমের বেশ অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে তিনি জানান। এই মোহনীতাজের দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য চিকিৎসক জুয়েল এখানে ব্যবস্থা করেছেন কমিউনিটি সেন্টার, শিশুদের জন্য বিনোদন পার্ক ও পিকনিক স্পটের। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শকের ভিড়ে মুখোরিত হয়ে থাকে এই মোহনী তাজ।

চিকিৎসক ফিরোজ জামান জুয়েলের স্ত্রী জেসমিন রহিম বলেন, মানুষ স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে থাকে তাই আমার স্বামীর প্রতিটি আশা পূরণে আমি সাধ্যমতো উৎসাহ দেই।