মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন পুন:স্থাপন কাজের উদ্বোধন করলেন হাসিনা-মোদী
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক



বিজ্ঞাপন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন পুন:স্থাপন কাজের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টায় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দিল্লী থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল সংযোগ পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এ সময় আখাউড়া-আগরতলা ডু‌য়েল গেজ রেল সং‌যোগ (বাংলা‌দেশ অংশ) নির্মাণ প্রকল্প এবং বাহারামপুর-‌ভেড়ামারা বিদ্যুৎ সং‌যোগ এইচ‌ভি‌ডি‌সি ইন্টার কা‌নেকশন প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়।

ভিডিও কনফারেন্সে পশ্চিম বঙ্গের মুখমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, বাংলা‌দে‌শের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বক্তব্য রাখেন।

এ উপলক্ষে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে জাতীয় সংসদের হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন এমপি, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মতিন, জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ, কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম, বড়‌লেখা উপ‌জেলা চেয়ারম্যান র‌ফিকুল ইসলাম সুন্দর, জু‌ড়ি উপ‌জেলা চেয়ারম্যান গুলশান আরা মি‌লি, কুলাউড়া পৌর মেয়র মো. শ‌ফি আলম ইউনুছসসহ রেলওয়ে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেলের পুরাতন ব্রিজ ও রেল লাইন উঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের শুরুতেই বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ও দক্ষিণভাগ এলাকায় দু’টি ইয়ার্ড তৈরি করাসহ প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর বুধবার রাজধানীর রেলভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং ভারতের কালিন্দী রেল নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের (টেক্সমাকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিডেটের একটি বিভাগ) সঙ্গে এই চুক্তি হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) আব্দুল হাই ও ভারতের কালিন্দী রেল নির্মাণের ভাইস প্রেসিডেন্ট শারদ শর্মা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ৪৪ দশমিক ৭৭ কিলোমিটারের পুরোটাই দ্বৈত গেজ লাইনে পুনর্বাসন করা হবে। এর মধ্যে সাত দশমিক ৭৭ কিলোমিটার লুপ লাইনের কাজ হবে। ট্রেন লাইন পুনর্বাসনের পাশাপাশি ছয়টি স্টেশনের মধ্যে জুড়ী, দক্ষিণভাগ, বড়লেখা ও শাহবাজপুর বি শ্রেণি এবং কাঁঠালতলি ও মুড়াউল স্টেশন ডি শ্রেণিতে পুনসংস্কার করা হবে। এই রেললাইনটি চালু হলে কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচটি ট্রেন চলাচল করবে। লোকাল ট্রেন ছাড়াও আন্তঃনগর ট্রেন চলবে। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় ট্রেনও চলবে এ পথ দিয়ে। কাজ শুরুর পর ২৪ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

রেলপথটি চালু হলে ২৪টি চা বাগানসহ বৃহত্তর বড়লেখা-জুড়ী-কুলাউড়া ও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য আমদানি ও যাতায়াতের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। উদ্ধার হবে রেলওয়ের বেহাত হওয়া কোটি কোটি টাকার সম্পদ। সচল হবে জুড়ী, দক্ষিণভাগ, কাঁঠালতলী, বড়লেখা, মুড়াউল ও শাহবাজপুর রেলস্টেশন।