এ.জে লাভলু:: সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত মৌলভীবাজারের বড়লেখার প্রবাসী সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল ৫টায় গাজিটেকা শাহী ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এর আগে সোমবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছায় সালেহের মরদেহ। মরদেহ গ্রহণ করতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সহযোগিতায় আহমদ আলীর মরদেহ দেশে আনা হয়।
পরে সোমবার সকালে আরেকটি ফ্লাইটে করে মরদেহ নেওয়া হয় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সকাল ১১টার দিকে সেখানে মরদেহ গ্রহণ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মন্ত্রী নিজেই মরদেহ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা গ্রামে পৌঁছে দেন।
সালেহের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। মানুষের ভিড়ে এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের ডিজি ব্যারিস্টার সারোয়ার কামাল, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) আজমল হোসেন, বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী, বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নছিব আলী, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাসনা, পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকন, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মালিক প্রমুখ।
এদিকে দাফন-কাফনের জন্য নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা এবং বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকার অনুদানের চেক প্রদান করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মরদেহ হস্তান্তরের পর মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি দুবাইয়ে নিহত বড়লেখার সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলীর মরদেহ নিয়ে তার বাড়িতে এসেছেন। তিনি জানান, সালেহ উদ্দিনের মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে এবং মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নিহত সালেহ উদ্দিনের পরিবারের জীবিকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার। তার ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে কর্মক্ষম সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও জানান, পরিবারের এক ছেলে অসুস্থ এবং স্ত্রী প্রতিবন্ধী। ছেলের চিকিৎসা ও স্ত্রীর প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রবাসে যারা আছেন, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, আমরা সবাই বিষয়টি মনিটরিং করছি। যারা অসুস্থ আছেন, তাদের চিকিৎসা চলছে ওইখানে (বিদেশে) হাসপাতালে। আরও তিনটা মরদেহ আছে। সেগুলো পরে আসবে। আমরা তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করব। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ আমাদের সরকার সবসময় প্রবাসীদের পাশে আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে, ইনশা আল্লাহ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী জীবিকার তাগিদে প্রায় ২৭ বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি আজমান শহরে বসবাস করতেন এবং পানি সরবরাহের গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর পানি সরবরাহ করতে গিয়ে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তাঁর গাড়িতে পড়ে। এতে সালেহসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা সালেহকে মৃত ঘোষণা করেন।



