বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ



Sex Cams

                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

বিয়ানীবাজারে প্রবাসীর তালাবদ্ধ বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ড, রহস্য ঘিরে নানা প্রশ্ন



বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিয়ানীবাজার:: সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার তাজপুর গ্রামে প্রবাসী আব্দুর রহিমের দীর্ঘদিনের তালাবদ্ধ বসতবাড়িতে গতকাল অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের না হওয়ায় আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কর্মরত। তাঁর ভাইদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ ছিল এবং সেখানে কেউ বসবাস করতেন না। অগ্নিকাণ্ডে বাড়ির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাড়িতে কেউ অবস্থান না করায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার বিষয়ে আব্দুর রহিমের ভাই ডালিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আগুন লাগার সময় তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের এক তরুণ জানান, “নিরাপত্তাজনিত কারণে আব্দুর রহিমের স্ত্রী ও সন্তানরা গ্রাম ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে তারা কোথায় অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারছেন না। তবে অনেকের ধারণা, আব্দুর রহিম এখনো সৌদি আরবে রয়েছেন।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, আব্দুর রহিমকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর কয়েকজন স্বজন ও কিছু ব্যক্তির ভূমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করেন। তবে ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।

স্থানীয় আরও এক বাসিন্দা জানান, অগ্নিকাণ্ডের আগের দিন এলাকায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ওই বৈঠক এবং পরদিনের অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আগুন লাগানোর সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন এমন ভান করেন। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর কয়েকজন বিষয়টি জানার কথা বললেও প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার এক দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক খোঁজখবর নিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিখিত অভিযোগ না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা থাকলেও রহস্য এখনো কাটেনি।