মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



কুলাউড়ায় অভিযানের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ৪ পুলিশ অবরুদ্ধ
মোটরসাইকেল ভাঙচুর

মোটরসাইকেল ভাঙচুর



বিজ্ঞাপন

লাতু ডেস্ক:: সারাদিন কাজ শেষে সন্ধ্যায় চা বাগানের মন্দিরে বসে তাস খেলছিলেন শ্রমিকরা। এ সময় সেখানে হাজির হন চারজন সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশ সদস্য। নিজেদের পরিচয় দিয়ে তারা চাঁদা দাবি করলে শ্রমিকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে পাশের একটি ঘরে আশ্রয় নেন। সেখানে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বেশ কিছুক্ষণ।

খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাদের উদ্ধার করেন। গত মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার জয়চন্ডী ইউনিয়নের দিলদারপুর চা বাগানের মণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে।

তবে শ্রমিকদের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই আক্কাস উদ্দিন দাবি করেন, তাদের দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক বলেন, শ্যামাপূজা উপলক্ষে সোমবার থেকে দিলদারপুর চা বাগানের শ্রমিকদের উদ্যোগে বাগানের পূজামণ্ডপে বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেউ কেউ মন্দিরের পাশে তাস খেলছিলেন। এ সময় এএসআই আক্কাসসহ চারজন সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় ধরপাকড় করেন। একটি আসর থেকে তারা তিন হাজার টাকা নেন। একই সময় পুলিশ সদস্যরা জ্বালানি কাঠ বোঝাই একটি ট্রাক আটকে চালকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন। এতে উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে।

এএসআই আক্কাস বলেন, পরোয়ানা থাকা দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য তিনজন কনস্টেবল নিয়ে দিলদারপুর চা বাগান এলাকায় যাই। ফেরার পথে পূজামণ্ডপের কাছে জুয়ার আসর চলতে দেখি। তাদের জুয়া খেলা বন্ধ করতে বললে কয়েকজন শ্রমিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। টাকা নেওয়ার অভিযোগের ভিত্তি নেই।

চেয়ারম্যান আবদুর রব মাহাবুব বলেন, বাগানে শ্রমিকরা পূজা করছিলেন। এ সময় সেখানে সাদা পোশাকে পুলিশ গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আমি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, এর বেশি কিছু নয়।