বুধবার, ২৩ জুন ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



দুবাইয়ে কলা খাওয়ার ছবি ফেসবুকে পোস্ট, জুড়ীতে বাবাকে পেটালেন ছাত্রলীগ সভাপতি!



বিজ্ঞাপন

ছবি: জুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাহাব উদ্দিন সাবেল।

নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় কলা খেয়ে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করার অপরাধে চা দোকানদার পিতাকে কর্মী দিয়ে ধরে নিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাহাব উদ্দিন সাবেলের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী স্বপন মিয়া।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সঞ্জয় চক্রবর্তী।

ভুক্তভোগী স্বপন মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে জানা যায়, ছেলে দুবাই প্রবাসী নাইম আহমদ কয়েকদিন পূর্বে দুবাইয়ে বসে কলা খাওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে লিখে “কলা খাচ্ছি, আরাম পাচ্ছি”। এ ছবি দেখে ক্ষিপ্ত হন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাহাব উদ্দিন সাবেল। এই ক্ষোভ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে আমার স্বামী স্বপন মিয়াকে তার চা দেকান থেকে ছাত্রলীগ সাবেলের নির্দেশে তার গ্রুপের কর্মীরা জুড়ী নিউ মার্কেটে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে ছাত্রলীগ সভাপতি সাহাব উদ্দিন সাবেলসহ তার কর্মীরা তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে কান ধরে উঠবস করায়। পরে উপস্থিত সকলের সামনে স্বপন মিয়াকে সাবেলের পা ধরে ক্ষমা চাওয়ায়। ছেলের বয়সী ছাত্রলীগ সভাপতির পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে পার পান চা দোকানদার স্বপন মিয়া। পরে তিনি জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং থানায় বিচারপ্রার্থী হন।


তিনি বলেন, ঘটনার পরদিন শুক্রবার রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যস্থতায় থানায় সালিশ বৈঠক বসে। সেখানেও ছাত্রলীগ সভাপতি সাবেলসহ তার কর্মীরা বিচার না মেনে দা নিয়ে ধাওয়া করেন।

স্বপন মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম আরও বলেন, এই ঘটনার পর থেকে আমার স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানীতে মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

একসময় তার (সাবেলের) বাবা কলা বিক্রি করতেন। এই কারণে নাকি আমার ছেলে কলার ছবি ফেসবুকে ছেড়ে তাকে অপমান করেছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাহাব উদ্দিন সাবেল বলেন, আমি প্রতিহিংসার স্বীকার। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থার জন্য মিথ্যা ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভুয়া।

তিনি বলেন, পরিবেশমন্ত্রী মহোদয়, দলীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসন অবগত হয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন।

জুড়ী থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ এসেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।