মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ



                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

তিন তারকার একই ধারা, কার ভাগ্যে কুলাউড়া?
বিশেষ প্রতিবেদক

বিশেষ প্রতিবেদক



বিজ্ঞাপন

১৪ দলীয় জোটে ১৪জন প্রার্থী নিয়ে মহাজোট যেমনি মহাজটে পড়েছে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে তেমনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রক্রিয়ায়ও মহাবিপাক দেখা দিয়েছে। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি- এ তিন দলের তিনজন রাজনীতি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, নওয়াব আলী আব্বাস খান এবং এমএম শাহীন বিগত প্রায় তিন যুগ ধরে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া সংসদীয় আসনে পরস্পরের মুখোমুখি রাজনৈতিক লড়াই করেছেন ভিন্ন প্লাটফর্মে। তৃনমূলের জনপ্রিয় ত্রিধারার তিন তারকা রাজনীতিক এখন ঐক্যফ্রন্টে একীভূত হয়ে একই প্লাটফর্মে।

কুলাউড়ার আপামর জনতাও তাদের উপর যথেষ্ট আস্থাশীল ও নির্ভরশীল থেকে তাঁদেরই বারেবারে নির্বাচিত করে প্রতিনিধি বানিয়েছেন মহান সংসদে। বিগত ১/১১ সংস্কার ঝড়ে জনপ্রিয় এ তিন তারকা রাজনীতিক মূলধারা থেকে ছিটকে পড়তে হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে সাবেক ডাকসুর ভিপি, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির নওয়াব আলী আব্বাছ খানকে মহাজোটের প্রার্থী বানিয়ে সর্বস্ব ঢেলে দিয়ে লাঙ্গল প্রতীকের বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন।

একই নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত সংস্কারবাদী ও তৎকালীন কিংস পার্টির অন্যতম নেতা এমএম শাহীন স্বতন্ত্র নির্বাচন করে নওয়াব আলী আব্বাছ খানের সাথে পরাজিত হয়ে দল বিচ্ছিন্ন থেকে এখন আবার বিএনপির মনোনয়ন দৌঁড়ে এলাকায় সরব রয়েছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনপূর্ব সময়ে মহাজোটের অন্যতম শরিকদল এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে বেরিয়ে কাজী জাফরের নেতৃত্বে উপদল গঠন করে ২০ দলীয় জোটে যুক্ত হয়ে নওয়াব আলী আব্বাছ খানও মূলধারা বিচ্ছিন্ন হয়েছেন।

সদ্য গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে কুলাউড়ার তিন নেতাই এখন একই সূত্রে গাঁথা। তিনজনই মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। দুজন শরিক জোটের হয়ে অন্যজন সরাসরি বিএনপির প্রার্থী। তবে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপির হলে অবশ্যই ধানের শীষ প্রতীক আর শরিক অংশের দু’জন অর্থাৎ নওয়াব আলী আব্বাছ খান ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুর হলে কী প্রতীকে লড়বেন তারই গুনগুনানি চলছে কুলাউড়ার সবর্ত্র।

তবে সংবাদ মাধ্যমে গুঞ্জন চলছে ঐতিহাসিক সিলেট-১ আসনে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হতে পারেন। সেক্ষেত্রে কপাল খুলতে পারে বাকী দু’জনের মধ্যে যে কারো।

নব্বইয়ের পট পরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির নওয়াব আলী আব্বাছ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন আ’লীগের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, ২০০১ সালে বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএম শাহীন (পরে বিএনপিতে যোগদান করেন)। আওয়ামী লীগ থেকে সুলতান মনসুর, জাতীয় পার্টি থেকে আলী আব্বাছ আর বিএনপি থেকে এমএম শাহীনের উত্তানে ভোটারদের মনে স্থান করে নিলেও সম্প্রতি এ তিন নেতাকে ঘিরে সষ্কট, শংকা দেখা দিয়েছে জনমনে।

কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-২ আসনের রয়েছেন ২ লাখ ৪১ হাজার ১০৮জন ভোটার। এর মধ্যে ৮০ হাজারেরও বেশি আছেন চা শ্রমিক। নির্বাচনে তাদের ভোটই মূল ফ্যাক্টর।