মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ



                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

পূজার জন্য প্রস্তুত মৌলভীবাজারের ৯৯৬টি মণ্ডপ
বিশেষ প্রতিবেদক

বিশেষ প্রতিবেদক



বিজ্ঞাপন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে মৌলভীবাজার ৯৯৬টি পূজা মণ্ডপে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। আর মাত্র একদির পর সোমবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে পূজা মণ্ডপ ও তার আশপাশ এলাকা রকমারি আলোকসজ্জাসহ বর্ণালী বাহারে সাজানো হচ্ছে। জেলার সাতটি উপজেলায় বিভিন্ন স্থায়ী মন্দিরে পাশাপাশি অস্থায়ী মন্দিরে শেষ মুহূর্তে তোরণ, প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছে।

জেলা পূজা উৎযাপন কমটির তথ্য মতে, এ বছর মৌলভীবাজারে ৯৯৬টি মণ্ডপে সর্বজনীন ৮৪২টি এবং ১৫৪টি মণ্ডপে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজনগরে সার্বজনীন ৭৬টি মণ্ডপ আর ব্যক্তিগত ৫৪টিতে বড়লেখায় সার্বজনীন ১৩৩টি আর ব্যক্তিগত ১৮টি, কুলাউড়ায় সার্বজনীন ১৯৪টি আর ব্যক্তিগত ২৩টি, জুড়ীতে সার্বজনীন ৬৫টি আর ব্যক্তিগত ৩টি, মৌলভীবাজার সদরে সার্বজনীন ৮৪টি আর ব্যক্তিগত ২৩টি, শ্রীমঙ্গলে সার্বজনীন ১৫৪টি আর ব্যক্তিগত ১৩টি, কমলগঞ্জে সার্বজনীন ১৩৬টি আর ব্যক্তিগত ২০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

মৌলভীবাজারে সব চেয়ে বেশি পূজা অনুষ্ঠিত হয় শ্রীমঙ্গলে। সেখানে নানা আদলে পূজার প্রতিমা তৈরি হয়।

বাংলাদেশ পূজা উৎযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দাশ বলেন, আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমরা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি। নির্বিঘ্নে যাতে শারদীয় দূর্গোৎসব পালিত হয় এ বিষয়ে আমরা পূজা উদযাপন পরিষদ কাজ করে যাচ্ছি।

তবে একক পূজার আকর্ষণের দিক থেকে এগিয়ে কুলাউড়ার কাদিপুর দূর্গা বাড়ি এবং রাজনগরে পাচগাঁও দূর্গা বাড়ি। কুলাউড়া দুর্গাবাড়ির মন্দির সিলেট বিভাগের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ এবং সুন্দর হওায় এবং রাজনগে উপমহাদেশের একমাত্র লাল দুর্গা দেবীর পূজা হওয়াতে পূজার ৩ দিন এই দুই স্থানে সিলেটের লাখো সনাতন ধর্মাবলম্বী এসে মিলিত হন। এছাড়াও শ্রীমঙ্গলের কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

জুড়ী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমূল্য চন্দ্র দাস জানান, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে সাড়ে ৩২ টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা সফল করার লক্ষ্যে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সব কিছু মিলে এই বছর পূজা উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল জানান, জেলায় শারদীয় দুর্গাপূজায় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। প্রত্যেকটি পূজা মণ্ডপসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।