বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



ইতালিতে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু: ‘আমার পোয়ারে আনিয়া দেও তুমরা, আমার পোয়া মরছে না, তোমরা মিছা মাতরায়’
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

দালালের মাধ্যমে ইতালিতে পাড়ি জমানো রাহুল আমিন নামের জগন্নাথপুরের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুতে মা-বাবার আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠছে এলাকার বাতাস।

শনিবার সরজমিনে রাহুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রাহুলের মা বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। আর উচ্চ সুরে বলেন, আমার পোয়ারে (ছেলে) আনিয়া (এনে) দেও তুমরা (তোমরা), আমার পোয়া মরছে না, তোমরা মিছা (মিথ্যা) মাতরায় (বলতেছো)। বলেই কান্নায় ভেঙে মাটিতে লুটে পড়ছেন। কাঁদছে রাহুমের বাবা, ভাই ও পরিবারে লোকজন।

রাহুল আমিন উপজেলায় কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দি গ্রামের দিনমজুর আব্দুল মান্নানের ছেলে।

পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চলতি বছরের ২০ মে স্থায়ী এক দালালের মাধ্যমে সাত লাখ টাকা চুক্তিরে বাড়ি থেকে ইতালির উদ্যেশে রওয়ানা হয় রহুল আমীন (১৮)। লিবিয়া হয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে প্রায় ১ মাস পর ইতালি পৌঁছায়। রাহুল অবৈধ অভিবাসী হওয়ায় ইতালি সরকারের ক্যাস্পে আশ্রয় মিলে তার। সেখানে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে পরিচয় হয় তার। এক পর্যায়ে অন্য ক্যাম্পে থাকা সুনামগঞ্জের এক যুবকের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে উঠে। একদিন বেড়াতে গিয়ে তাদের মধ্য ঝগড়া বাধলে ওই যুবকরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে সড়কে ফেলে যায়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। কিছুটা সুস্থ হলে তাকে ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

রুহুল আমীনের ভাই জুয়েল আমিন বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) আমাকে ফোন করে বলে আব্বা-আম্মাকে বলো আমার জন্য চিন্তা না করতে। তাদেরকে বলো আমার জন্য যেন দোয়া করেন। একদিন বাদে দেশে কথা বলার জন্য মোবাইল কার্ড পাব। তারপর সবার সাথে কথা বলব। তার পরের দিন তার মৃত্যু খবর পাই আমরা। আমার ভাইকে হত্যাই করা হয়েছে।

তার চাচাতো ভাই নোমান আহমদ বলেন, রাহুল আমাকে মোবাইল ফোন করে জানিয়েছে, তাকে ভীষণ মারধর করা হয়েছে। এতে সে অসুস্থ হয়েছে। হঠাৎ করে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে বিশ্বাসই করতে পারছি না সে আর নেই।

রাহুমের বাবা আব্দুল হান্নান বলেন, সংসারের অভাবে দূর করার জন্য আমার কাছে বায়না ধরে বিদেশ যাওয়ার জন্য। প্রথমবার না করেছি। কিন্তু বার বার বলায় আর না করতে পারিনি। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমি বর্তমান সরকারের মাধ্যমে ছেলের লাশ দেশে আনার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করার প্রক্রিয়া শুরু হলে ইতালিতে অবস্থানরত ছাতক উপজেলার এক ইমাম এতে বাধা দিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করায় এটা করতে পারেনি।

ওই বাড়িতে কথা হয় কলকলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারের অভাব দূর করতেই বিদেশ পাড়ি দেয় রাহুল। ছেলেটি খুবই ভালো চরিত্রের ছিল। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তিনি বলেন, রাহুলের মরদেহ দেশে আনতে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের সুদৃষ্টি কামনা করছি।