মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



লোভে গা ভাসালে হারিয়ে যাবে, ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী
খবর: বাংলানিউজ

খবর: বাংলানিউজ



বিজ্ঞাপন

ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে ত্যাগের রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আদর্শের কথা শুধু মুখে বলার নয়, আদর্শ অনুসরণ করা, মেনে চলাটা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, নিজেকে আদর্শের নেতা হিসেবে যদি গড়তে পারো, গড়তে পারবে। আর যদি সম্পদের লোভে গা ভাসিয়ে দাও তাহলে হারিয়ে যাবে, ভেসে যাবে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে গণভবনে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়া অতীত ছাত্রনেতাদের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বহু ছাত্রনেতারা চলে গেছে। কেউ বিএনপিতে গেছে, কেউ এখানে-সেখানে। তারা লোভে পড়েছিল, চলে গেছে।

‘তারা কিন্তু আর কিছু দিয়ে যেতে পারেনি। কিন্তু যারা আদর্শ নিয়ে ধরে আছে, তারা দেশকে কিছু দিতে পেরেছে। এই কথাটা তোমরা মনে রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তার (বঙ্গবন্ধুর) আদর্শের কথা বলি, আদর্শের কথা শুধু মুখে বলার নয়, আদর্শ অনুসরণ করা, অনুশীলন করা, মেনে চলা- এটাই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেটা যদি করা যায় তাহলে দেশকে কিছু দেওয়া যায়, দেশের মানুষের জন্য কিছু করা যায়।

তিনি বলেন, একজন রাজনীতিকের জীবনে এই চিন্তা-চেতনাই থাকা উচিত। রাজনীতি শুধু কি পেলাম, না পেলাম, কতোটুকু মূল্যায়ন হলো, না হলো সেই হিসেব করবার জন্য নয়। কতোটুকু দেশকে দিতে পারলাম সেটাই বড় কথা। এভাবে যারা রাজনীতি করে তাদের কিছু চাইতে হয় না। ইতিহাস তাদের মনে রাখে, ইতিহাস তাদের মূল্যায়ন করে।

‘আমরা রাজনীতি দেখি কতো রকমের! কেউ রাজনীতি করে শুধু নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, কেউ রাজনীতি করে রাজনীতির ছত্রছায়ায়, ধন-সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য। কেউ রাজনীতি করে সামাজিকভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, জনগণের কথা চিন্তা করে, জনগণের কল্যাণের কথা ভেবে যারা রাজনীতি করে ইতিহাস তাদেরই স্বীকৃতি দেয়, ইতিহাস তাদেরই মর্যাদা দেয়, ইতিহাসে তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে। শত চেষ্টা করেও সেই নাম কখনো মুছে ফেলা যায় না। সেই দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’

ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মন দিয়ে পড়াশোনার করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, লেখাপড়া শিখতে হবে। সবচেয়ে বড় সম্পদ শিক্ষা। ধন-সম্পদ চিরদিন থাকে না। কেউ যদি অনেক সম্পদ বানিয়ে গর্ব করে – চিরদিন তা ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু শিক্ষা এমন একটা সম্পদ, যে সম্পদ কেউ ফেলে দিতে পারে না

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিটি ছেলে-মেয়েকে সবার আগে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর সেই শিক্ষা নিয়েই আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করতে হবে।

ছাত্রলীগের ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতো আন্দোলন হয়েছে, সেখানে যদি শহীদের তালিকা দেখি- ছাত্রলীগের শহীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বারবার অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

ছাত্রলীগকে আদর্শের সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ছাত্রলীগকে সংগঠন হিসেবে সেভাবে গড়ে তুলতে হবে, একটা আদর্শের সংগঠন হিসেবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার তো বয়স হয়ে গেছে, কাজেই তোমরাই হবে ভবিষ্যৎ। তোমরা নেতৃত্ব দেবে, কাজে তোমাদেরকেই আদর্শের পতাকা সমুন্নত রেখে প্রগতির পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কারণ তোমাদের আদর্শ শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি। শিক্ষার আলো জ্বেলে প্রগতির পথ ধরে শান্তির মশাল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ-শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে লক্ষ্য আমরা নির্ধারণ করেছি তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমার যতটুকু করার তা করে যাবো, তারপর তো তোমাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, এদেশের মানুষের অধিকারের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন আমার বাবা-মা। তারা জীবন দিয়ে গেছেন কিন্ত জাতির পিতার আদর্শের তো মৃত্যু নেই। আর সেই আদর্শ নিয়েই আমরা চলছি। আর সেই আদর্শ নিয়েই এদেশকে আমরা গড়ে তুলবো জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আদর্শের পথ জাতির পিতা দেখিয়ে গেছেন সে আদর্শের পথ ধরেই আজকে আমরা বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে আমরা উন্নীত হতে পেরেছি। জাতির পিতার আদর্শ মেনে চলেছি বলেই সেটা করা সম্ভব হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর অবদানের তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন মানুষ তার জীবনের সব কিছু ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা সঞ্চালনা করেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. জোবায়ের আহমেদ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের দুর্লভ দু’টি ছবি আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।