শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



শাহবাজপুরের বাদে ভাটাউচি গ্রামে মসজিদ নির্মাণের পিছনের গল্প



বিজ্ঞাপন

তাইসির মাহমুদ:
গ্রামের সকলে মিলে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। কিন্তু অর্থ কোথা থেকে আসবে তা কারোরই জানা ছিলোনা। সুহৃদ, শুভাকাঙ্খীদের অনেকেই অভয় দিলেন। বললেন, অর্থের অভাবে মসজিদের কাজ শেষ হয়নি এমন নজির নেই। চিন্তা না করে শুরু করুন । আল্লাহ তায়ালাই তাঁর ঘরের কাজ শেষ করবেন। তাঁদের কথায় ভরসা পাই। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়ে যায়।

এরপর ৩ জানুয়ারি (২০১৮) বন্ধু-বান্ধবদের সহযোগিতায় লন্ডন মুসলিম সেন্টারে আয়োজন করি প্রথম ফান্ডরেইজিং ডিনার। তাতেও ভয় ছিলো। ফান্ডরেইজিংয়ের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কাঙ্খিত সাহায্য পাওয়া যাবে তো? কিন্তু আল্লাহ তায়ালার কী অনুগ্রহ? মাত্র জনা পঞ্চাশ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ২৩ লক্ষ টাকার প্রতিশ্রুতি চলে আসে।

কাজ চলতে থাকে দ্রুত গতিতে। সাহায্যও আসতে থাকে। যাকে বলেছি কেউ না বলেননি। অনেককে বলতেও হয়নি। জানতে পেরে নিজেই দিয়েছেন। মাশাল্লাহ গত শনিবার মসজিদের ছবি পেলাম হোয়াটসঅ্যাপ। মসজিদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফ্রান্স প্রবাসী চাচাতো ভাই জুবায়ের আহমদ দেশে বেড়াতে গিয়ে ছবিগুলো পাঠিয়েছেন। ছাদ ঢালাই শেষে দেয়ালের গাঁথুনির কাজও সম্পন্ন হয়ে গেছে। মসজিদটি দাঁড়িয়ে গেছে দেখে মনটি পরম আনন্দে ভরে ওঠলো। আমার বিশ্বাস, যাঁরা অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন মসজিদের ছবি দেখে তাঁরাও আমার মতো খুশী হয়েছেন। আশা করছি, কিছু দিনের মধ্যেই মসজিদে নামাজ শুরু করা যাবে ।

জানুয়ারি থেকে আগস্ট। মাত্র ৮ মাস সময়ে মসজিদটি যে দাঁড়িয়ে যাবে তা কল্পনাও করতে পারিনি। আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত। এই মসজিদ নির্মাণে যারাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এসেছেন সকলকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে আমার আরো এক চাচাতো ভাই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী সুজন আহমদকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। কারণ মসজিদ নির্মাণে তাঁর আন্তরিকতা আমাকে সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

লন্ডনে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন কারো নাম নিচ্ছিনা। কারণ একজনের নাম লিখতে গেলে অন্যজনের নাম বাদ পড়বে। তবে আপনাদের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনারা অনায়াসেই আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে মসজিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা যেনো আপনাদের দানকে কবুল করেন।

যারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাঁদের অধিকাংশই অর্থ দিয়ে দিয়েছেন। যাঁদের বাকি আছে তাঁরাও দিয়ে দিবেন- এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তবে এখনই প্রতিশ্রুত অর্থ দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এলে খুব শীঘ্রই মসজিদে নামাজ শুরু করা যাবে। সকলের প্রতি নিরন্তর শুভ কামনা। আল্লাহ সহায়।

উল্লেখ্য, মসজিদটির অবস্থান বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বাদে ভাটাউচি গ্রামে।

তাইসির মাহমুদ
ডেগেনহ্যান, পূর্ব লন্ডন, ইউকে
২৭ আগস্ট ২০১৮

ফেসবুক থেকে নেওয়া