বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত মিনা
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

ইসলামের পঞ্চম রুকন পবিত্র হজব্রত পালন করতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২০ লাখের বেশি হাজি ইতোমধ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এখন তারা মিনা অভিমুখী। কারণ এখন থেকেই আজ রোববার শুরু হচ্ছে হজের আনুষ্ঠানিকতা।

সৌদি গণমাধ্যম আল-আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আল্লাহর হুকুম পালন করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ওইসব লোক মক্কায় এসেছেন। তাদের সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হা’মদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়ালমুলক, লা-শারিকা লাক।’ (আমি হাজির। ও আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই; সব প্রশংসা আর নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার, তোমার কোনো অংশীদার নেই।)

সৌদি গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় শুরু হচ্ছে হজের আনুষ্ঠানিকতা। সে কারণে সবার গন্তব্য এখন মিনা। কেউ গাড়িতে, কেউ চলছেন পদব্রজে। পবিত্র মক্কা হতে মিনার পথ লাখো মানুষের পদভারে মুখরিত। আর তাদের লাব্বাইক ধ্বনিতে প্রকম্পিত হচ্ছে মিনার বাতাস।

এর আগে শুক্রবার ২০ লাখের বেশি মুসলমান মসজিদুল হারামে (কাবা) জুমার সালাত আদায় করেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর হজযাত্রীরা নিজ নিজ আবাস এবং মসজিদুল হারাম থেকে ইহরাম বেঁধে মক্কা থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। মিনায় যাত্রার মধ্য দিয়ে হজ পালনের সুচনা হয়, যা শেষ হবে ১২ জিলহজ শয়তানকে পাথর মেরে। আগামীকাল ফজরের নামাজের পূর্ব পর্যন্ত মিনার পথে মুমিন মুসলমান বান্দাদের এ কাফেলা চলবে। মিনায় পৌঁছে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন তারা।

৯ জিলহজ মিনায় ফজরের নামাজ আদায় করে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য প্রত্যূষে তারা যাবেন মহানবীর বিদায় হজের ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত আরাফাত ময়দানে। সেলাইবিহীন শুভ্র এক কাপড়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা সেখানে থাকবেন। মূলত: ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়। এদিনের নাম-ইয়ামুল আরাফা। সূর্যাস্তের পর আরাফাত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন হাজিরা। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন।

১০ জিলহজ্ব মিনায় প্রত্যাবর্তনের পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি, মাথা ন্যাড়া করা এবং তাওয়াফে জিয়ারত। অত:পর মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান ও প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ। সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ী তাওয়াফের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র মেজর জেনারেল মানসুর আল-তুর্কি বলেছেন, মঙ্গলবার ঈদুল আজহার শুরুতে হাজির চূড়ান্ত সংখ্যা ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, হাজিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রায় ৩০ হাজার চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ করেছে। সৌদি রেড ক্রিসেন্ট ১২৭টি জরুরি সেবা কেন্দ্র স্থাপন করেছে এবং ৩৬১টি অ্যাম্বুলেন্স ও ২০টি মোটরসাইকেল জরুরি সেবা দিচ্ছে। আর সেখানে কাজ করছে প্রায় দুই হাজার স্টাফ।

অন্যদিকে, পবিত্র নগরী মদিনায় হাজিদের সেবায় ২২টি হাসপাতাল, ১৫ জরুরি সেবা কেন্দ্র, ৯০টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ৬৫০ জন প্যারামেডিক সেবাপ্রদান করবে।

এদিকে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার হাজি হজব্রত পালন করতে সৌদি আরব গেছেন।