শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ



Sex Cams

                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত, প্ররোচনার মামলা হলে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ : ওসি



বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সম্প্রতি বহুল আলোচিত গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে মুন্নির মৃত্যুর কারণ এবং পুলিশের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, গত ২১ আগস্ট বড়লেখা উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামের গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নি (২২) আত্মহত্যা করেছেন-এমন সংবাদ পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ মুন্নির মরদেহ বসতঘরের টয়লেটের টিনের চালার কাঠের তীরের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। বিধি অনুযায়ী মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।

তিনি বলেন, মুন্নির বাবা হাজি মকবুল আলী তাঁর মেয়ের মানসিক চিকিৎসার কাগজপত্র দেখিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের আবেদন জানান। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু বলে প্রতীয়মান হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য ময়নাতদন্ত জরুরি বলে মনে করে পুলিশ।

পরে হাজি মকবুল আলীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারায় বড়লেখা থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মরদেহ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

এদিকে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, মরিয়ম আক্তার মুন্নিকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির ননদ, শাশুড়ি ও ভাসুর নির্যাতন করে হত্যা করার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছেন। মুন্নির বাবা-মা ও স্বজনদের এমন অভিযোগ পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে তদন্ত অব্যাহত রাখে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর জুমার পর বড়লেখা শহরের শহীদ মিনারে মানববন্ধন করার জন্য ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর বিষয়টিও পুলিশের নজরে এসেছে বলে জানান ওসি।

ওসি বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর মুন্নির ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাসপাতাল থেকে পুলিশের কাছে পৌঁছায়। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চিকিৎসক স্পষ্টভাবে মুন্নির মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু’ বলে মতামত দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, মুন্নির শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং ঘটনার আগে ভিডিও কল ও ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে তাঁর বাবাকে মারধরের বিষয় জানানো হয়েছিল-এমন তথ্যের ভিত্তিতে মুন্নির বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করতে পারেন। এ বিষয়ে তাঁকে থানায় আসতে খবর পাঠানো হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, মুন্নির পাঠানো কল রেকর্ডগুলো প্রথম দিকে পাওয়া যায়নি।

ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত না হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, অসত্য বা উসকানিমূলক তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ধরনের প্রচারণা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হতে পারে।