লাতু ডেস্ক:: সিলেটের রায়নগরে মিতালি আবাসিক এলাকায় বাসায় ঢুকে গৃহকর্মীসহ দম্পতি হত্যার আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। এতে সম্পত্তি নিয়ে একটি বিরোধে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির বড় সন্তান যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলার দাখিল করেন। মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির।
মামলায় বলা হয়েছে, নগরীর রায়নগর এলাকার সম্পত্তি ও রিকাবিবাজার এলাকায় লুসাই গির্জা সমিতির ভূমির মালিকানা নিয়ে তার বাবা আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন। বিভিন্ন সময় মামলা প্রত্যাহারের জন্য সেলিনার বাবা ও তাকে হুমকি দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি বিকালে সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন তাদের পৈতৃক বাসায় গিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন। এ সময় তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ট্রিপল মার্ডার ভাড়াটে খুনির কাজ অভিযোগ করে এজহারে বাদী বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অত্যন্ত পেশাদার অজ্ঞাত ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে আব্দুস সাত্তার, সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনাকে হত্যা করে বাসা থেকে মামলা ও ভূমি সংক্রান্ত সব কাগজপত্র, জিডি কপি এবং দলিলাদি নিয়ে যায়।
গত ১২ আগস্ট মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে গৃহকর্মী তাহমিনাসহ (১৫) ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০) ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের (৭৬) গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গৃহকর্মীসহ বাসায় সাত্তার-সুরাইয়া থাকতেন। তাদের সন্তানেরা সবাই যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাসির সদস্য ও সাবেক পরিচালক। পাশাপাশি তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। তাদের চার সন্তারে মধ্যে দুই সন্তান যুক্তরাজ্যে ও দুই সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর সেলিনা সুলতানার সঙ্গে প্রবাসফেরত তার ভাই আরিফ ইফতেখারও ছিলেন। এ সময় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সেলিনা সুলতানা।
তিনি বলেন, ‘আমি আর আমার ভাই এসেছি। আমরা বিশ্বাস করি না তিনজনকে একা একটা লোক হত্যা করেছে। এর পেছনে বড় কোনো হাত আছে। আমাদের মা-বাবা যেভাবে খুন হয়েছেন, পরবর্তীতে যেন আর কোনো মা-বাবার এ রকম না হয়। ছেলের কাঁধে যেন আর কোনো মা-বাবার মরদেহ না ওঠে।
পুলিশের উদঘাটন সম্পর্কে সেলিনা বলেন, ‘কাজের মেয়েটাকে (তাহমিনা) বাঁচাতে গিয়ে আমার মা-মারা গেছেন। একটা বাচ্চা মেয়ে, সে খুব ভালো ছিল, মেয়েটার কাছে কোনো মোবাইল ছিল না। মেয়েটা আমাদের কাছে আমানত ছিল। কেসটা ঘুরানোর জন্য মেয়েটাকে দেখানো হচ্ছে। এটা সত্য কোনো ঘটনা না।’
ঘটনার সময় লোডশেডিং থাকায় মহল্লার সিসি ক্যামেরা ও বাসার সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। তবে অন্য একটি সিসি ক্যামেরার কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ খুনি শনাক্ত করে বাবুল মিয়া (৪০) নামের স্থানীয় এক রংমিস্ত্রিকে আটকের পর গ্রেপ্তার দেখায়। বাবুল পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যমতে পরদিন বৃহস্পতিবার ওই এলাকা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছোরাও উদ্ধার করা হয়।
মামলায় ভাড়াটে খুনি বলা হলেও বাবুল মিয়াকে সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার দেখিয়ে তদন্ত চলবে জানিয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্ম কর্তা (ওসি) বলেন, ‘দম্পতির সন্তানেরা কেউ ঘটনার সময় দেশে ছিলেন না। কে খুনি তারা জানেনও না। তবু তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করবে পুলিশ।’




