নিজস্ব প্রতিবেদক:: মৌলভীবাজারের বড়লেখার দাসেরবাজারে ডাকাতি করতে গিয়ে গৃহকর্তা গিয়াস উদ্দিনকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া গুলিতে নিজ দলের ডাকাত সদস্য হত্যা মামলার আসামি অপর ডাকাত আব্দুল করিম ওরফে রেজাউল করিমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দেবল চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকা হতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার দুপুরে গ্রেপ্তার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। করিম সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সেনাপতির চক গ্রামের মো. আব্দুল খালিকের ছেলে।
জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ লঘাটি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের বাড়িতে গত ২৮ এপ্রিল রাত প্রায় ৩টার দিকে একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওই বাড়িতে স্ত্রী, সন্তান ও ভাগ্নাকে নিয়ে বসবাস করছিলেন আব্দুল কুদ্দুছের নিকটাত্মীয় কাঞ্চনপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন (৬০)। বসতঘরের পশ্চিম পাশে রান্নাঘরের কাঠের দরজা ভাঙার শব্দে গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রীর ঘুম ভেঙে যায়। তিনি রান্নাঘরের কাছে গিয়ে দেখতে পান ৬-৭ জনের একটি ডাকাতদল দরজা ভেঙে কোলাপসিবল গেটের তালা ভাঙার চেষ্টা করছে। এ সময় গিয়াস উদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যরা ভেতর থেকে গেট চেপে ধরে রাখেন, যাতে ডাকাতরা ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। একপর্যায়ে গেট আটকে রাখার সময় ডাকাতদলের এক সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গিয়াস উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ডাকাতদলের অপর সদস্য সাইফুল ইসলামের মাথায় বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে অন্য ডাকাতরা সাইফুলের মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গিয়াস উদ্দিন ২৮ এপ্রিল বড়লেখা থানায় মামলা দায়ের করেন।
বড়লেখা থানার ওসি মো. মানিরুজ্জামান খান জানান, পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। তদন্তে ধৃত আসামির ডাকাতির চেষ্টা ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শনিবার বিকেলে সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার বিরুদ্ধে সিলেটের বিয়ানীবাজার, কোতোয়ালি, দক্ষিণ সুরমা, জকিগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সদর থানায় ৪টি ডাকাতি মামলাসহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।




