সপ্তম শ্রেণীতে থাকাকালীন সময়ে প্রথম কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার সময় আমি কি কখনো কল্পনাও করেছিলাম যে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করতে পারব! তবে সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত এবং আমার প্রিয়জনদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আমার এই স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৪ এ একক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে আমি সক্ষম হয়েছিলাম।
স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিল না। তবে আমার মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের সার্বিক সহযোগিতায় আমি এই দীর্ঘ যাত্রা সফলভাবে পাড়ি দিতে পেরেছি।
স্কুল পর্যায়ে বিতর্ক, কবিতা আবৃত্তি এবং নির্ধারিত বক্তৃতা-এই তিনটি বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পর আমি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কবিতা আবৃত্তি এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমার সফলতার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সক্ষম হই। পরবর্তীতে বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করলেও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা নিয়ে আমি যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ছিলাম।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত হলো আমার জীবনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। যখন একেবারেই একটি অজানা বিষয় বিতর্কের বিষয় হিসেবে বিচারকবৃন্দ নির্ধারণ করলেন, তখন ধরে নিয়েছিলাম আমি আর পারব না। তবুও মনোবল শক্ত করে মাত্র দশ মিনিটে যতটুকু সম্ভব প্রস্তুতি নিয়ে আমি আমার যুক্তি ও তর্ক উপস্থাপন করলাম।
যথেষ্ট ভালো করেছি-এই আত্মবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ভয়ে ছিলাম, কেননা সেখানে সবাই ছিল সেরাদের সেরা। তার ওপর দুর্ভাগ্যবশত বক্তব্যের সময় আমার স্ক্রিপ্ট মেঝেতে পড়ে গিয়েছিল। তবুও আমি থেমে থাকিনি। মন খারাপ করে ফলাফলের অপেক্ষা করছিলাম।
ফলাফল ঘোষণার আগে বিচারকবৃন্দ তাঁদের সার্বিক মন্তব্য প্রদান করেন এবং সবার ভুলত্রুটি তুলে ধরেন। সেই সময় যখন একজন বিচারক আমার নাম ধরে ডাকলেন, তখন আমি আতকে উঠেছিলাম। কিন্তু ম্যাডাম যখন আমার স্ক্রিপ্ট পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করে আমার উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করলেন, তখন যেন আশার আলো দেখতে পেলাম।
ফলাফল ঘোষণার সময় তৃতীয় ও দ্বিতীয় স্থানে আমার নাম ডাকা হলো না। তখন মন খারাপ করে নির্ধারিত কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন প্রথম স্থান অধিকারী হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করা হলো, তখন আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। অবিশ্বাসের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে আমি বিচারকের কাছে গিয়ে আবারও জিজ্ঞেস করেছিলাম-আমার নামই কি ডাকা হয়েছে? তিনি হাসিমুখে আমাকে নিশ্চয়তা দিলে আমি আনন্দে আমার মাকে জড়িয়ে ধরলাম এবং আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম।
নিজ উপজেলায় ফিরে আসার পর সবার গর্বিত ও খুশি মুখ দেখে মনে হলো-এ যেন আমার আরেকটি বড় প্রাপ্তি। দিনশেষে আমার এই অর্জনের জন্য আমি আমার মা–বাবা, শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রিয়জনদের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
তাকিয়্যা তাসকিন জয়া
শিক্ষার্থী
দশম শ্রেণী, বিজ্ঞান বিভাগ
রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুল
বড়লেখা, মৌলভীবাজার







